বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য চালু হওয়া ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuvasathi Scheme) ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। মাত্র ৯ দিনেই প্রায় ৭৭ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নাম নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার আজ শেষ দিন। তবে আবেদনকারীর বিপুল সংখ্যার কথা মাথায় রেখে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
যুবসাথী প্রকল্পে (Yuvasathi Scheme) নজিরবিহীন সাড়া
চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্প (Yuvasathi Scheme) প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাস যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন। কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত অথবা সর্বাধিক পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
কত আবেদন জমা পড়েছে?
নবান্নের হিসেব বলছে, বুধবার পর্যন্ত মোট ৭৬ লক্ষ ৭৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে (Yuvasathi Scheme)। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া।
স্বনির্ভর বাংলা শিবিরেও উপচে পড়া ভিড়
শুধু যুবসাথী (Yuvasathi Scheme) নয়, রাজ্যজুড়ে চলা ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরেও বিপুল সাড়া মিলছে। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে ব্যাপক হারে। অনেক মহিলা জানিয়েছেন, আগে মাসে ১০০০ টাকা পাওয়া যেত। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০ টাকায়, অর্থাৎ বছরে ১৮ হাজার টাকা। এই বাড়তি ৫০০ টাকার কারণেই অনেকে নতুন করে ফর্ম পূরণ করছেন। এছাড়া আর্থিক সহায়তা প্রকল্পে ভূমিহীন কৃষকরাও আবেদন করেছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। শিবিরের পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে অর্থ রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। প্রথমে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ আগস্ট থেকে প্রকল্প চালু হবে। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্প (Yuvasathi Scheme) কার্যকর হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি না ধরলে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যেত’, SIR নিয়ে জৈনদের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মমতা!
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পে (Yuvasathi Scheme) আবেদন জানানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সেই নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন। তবে আবেদনকারীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শেষ মুহূর্তে আরও কোনও সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকছে।












