বাংলা হান্ট ডেস্ক : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে নতুন সরকার (Government of West Bengal)। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠকেই বিএসএফ-কে সীমান্ত এলাকায় বেড়া তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বুধবার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সীমান্ত এলাকা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত সরকারের (Government of West Bengal)?
বুধবার নবান্নে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি খুব দ্রুত বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই জমির একটি অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া তৈরির কাজ শুরু করার জন্য জমি হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
এই প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে বিএসএফ আগেই জমি চেয়েছিল। কিন্তু আগের সরকার সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় সীমান্ত বেড়া তৈরির প্রয়োজন রয়েছে এবং তার মধ্যে অধিকাংশ জমিই আগের সরকার সহজেই দিতে পারত।
শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, এদিন সিএএ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁরা সিএএ-র অন্তুর্ভুক্ত নন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।” তাঁদের দেশ থেকে বার করে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক সভা থেকে বাংলায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রতিশ্রুতিকেই কার্যকর করার পথে হাঁটছে নতুন প্রশাসন। নতুন সরকার এবার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন : বছরে কোটি টাকা ইনকাম অভিষেকের, বেতন ছাড়াও কোন খাত থেকে আসে টাকা?
সীমান্ত নিরাপত্তা, সিএএ কার্যকর এবং অনুপ্রবেশ রুখতে নতুন সরকারের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।













