বদ্রীনাথ মন্দিরেও অনুদান চুরির অভিযোগ! তদন্তের উদ্দেশ্যে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি, জমা পড়বে রিপোর্ট

Published on:

Published on:

4 member committee formed to investigate allegations of donation theft at Badrinath Temple.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি, তারই মধ্যে এবার দেশের অন্যতম পবিত্র হিন্দু তীর্থ বদ্রীনাথ মন্দিরেও (Badrinath Temple) প্রণামীর অর্থ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থে অনিয়ম এবং চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (Badarinath Kedarnath Temple Committee)। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে (Investigation) চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ ওঠায় ভক্তমহল এবং প্রশাসনিক স্তরেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বদ্রীনাথ মন্দিরে (Badrinath Temple) অনুদান চুরির অভিযোগে তদন্তের উদ্দেশ্যে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি:

শনিবার বদ্রীনাথ (Badrinath Temple)-কেদারনাথ মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিকেটিসির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সোহন সিং রাঙ্গার জানান, কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর নির্দেশেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখা যায়। তদন্তকারীরা মন্দির চত্বরে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করবেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও যাচাই করবেন। তদন্ত শেষে রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! দুর্গাপুজোর আগে কী সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য?

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ‘ভৈরব সেনা’ নামে একটি হিন্দু সংগঠন মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। সেই অভিযোগে দাবি করা হয়, মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। সংগঠনের অভিযোগ, বিষয়টি আগেই চেয়ারম্যানের নজরে আনা হলেও তখন যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের দাবিও জানানো হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মন্দির কমিটির কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং অতীতেও একাধিক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগাম দোষী বলা হবে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই সত্য সামনে আনা হবে। তিনি জানান, যদি তদন্তে আর্থিক অনিয়ম বা প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে সিইও সোহন সিং রাঙ্গারও জানান, প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হলেও তা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। তাই বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আরও বিস্তারিতভাবে সমস্ত ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে।

4 member committee formed to investigate allegations of donation theft at Badrinath Temple.

আরও পড়ুন: গয়না কিনবেন? ফের কমল সোনার দাম, আজকের লেটেস্ট রেট জেনে নিন

উল্লেখ্য, প্রতি বছর বদ্রীনাথ (Badrinath Temple) ও কেদারনাথ মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুজো দিতে আসেন এবং বিপুল পরিমাণ অনুদান জমা পড়ে। চলতি তীর্থ মরশুমেই দুই মন্দিরে প্রণামী বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও মন্দির পরিচালিত অতিথিশালা ও অন্যান্য পরিষেবা থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়। সাধারণভাবে বছরে ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব আসে এই দুই তীর্থকে কেন্দ্র করে। এত বিপুল অঙ্কের অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে ভক্তদের মধ্যে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকেই এখন সবার নজর। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্পষ্ট হবে অভিযোগের সত্যতা এবং ভবিষ্যতে মন্দিরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।