বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেরালার এক তরুণের জীবনের মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত আজ বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প। মার্চেন্ট নেভির চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে ঝুঁকে পড়া যে কতটা সফল (Success Story) হতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ রাহুল গোবিন্দ। সমুদ্রের চাকচিক্য ছেড়ে মাটির সঙ্গে বন্ধন গড়ে তুলে আজ তিনি গড়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকার ব্যবসা। আগ্রহ আর নিষ্ঠা থাকলে যে সাফল্য ধরা দিতেই পারে, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কান্নুর জেলার এই যুবক।
রাহুল গোবিন্দের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
রাহুল গোবিন্দ ২০১০ সালে মার্চেন্ট নেভিতে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘদিন সমুদ্রে কাটালেও তাঁর মনে ছিল কৃষিকাজের প্রতি গভীর টান। পারিবারিক কিছু কারণে একসময় তাঁকে কয়েক দিনের জন্য বাড়িতে ফিরতে হয়। সেই সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে থেকে কৃষিকাজের পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। ধীরে ধীরে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রাহুল। পরিবারের পূর্ণ সমর্থনই তাঁকে এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহস জুগিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ভাইপো হল জামাই! পাক সেনার সদর দফতরেই মেয়ের বিয়ে দিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির
কৃষিকাজ শুরু করার জন্য রাহুল বেছে নেন মাশরুম চাষ। মা-কে সঙ্গে নিয়ে তিনি কান্নুরের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের (KVK) একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষের খুঁটিনাটি শেখেন দু’জনে। প্রথমে মাত্র ৫০ বর্গফুটের একটি ছোট ঘরে ১০০টি মাশরুম বেড দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ছোট এই উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় ব্যবসার ভিত গড়ে দেয়।
ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়তে থাকে এবং সেই সঙ্গে বাড়ে বাজারের চাহিদা। রাহুল প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর সংস্থা ‘মনসুন মাশরুম’। আজ এই সংস্থা শুধু মাশরুম বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়। স্পন উৎপাদন, খামারের নকশা, প্রশিক্ষণ এবং পরামর্শ—মাশরুম চাষ সংক্রান্ত প্রায় সব পরিষেবাই দেয় মনসুন মাশরুম। সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করায় মধ্যস্বত্বভোগীর উপর নির্ভরতা কমে যায়।

আরও পড়ুন:সাগরের হাওয়ায় নিশ্চিন্ত ছুটি! দিঘার কাছেই মিলবে ভিড়হীন এই বিশেষ জায়গায়
কোভিড-১৯ মহামারীর কঠিন সময়েও রাহুলের ব্যবসা থেমে থাকেনি। বিপণনের নতুন কৌশল এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে ঝোঁকার ফলে ব্যবসা আরও শক্ত ভিত পায়। মাশরুম দিয়ে তৈরি স্যুপ, আচার, বিরিয়ানির মতো নানা পণ্য বাজারে আনেন তিনি। এর ফলেই বর্তমানে তাঁর সংস্থার বার্ষিক টার্নওভার ছাড়িয়েছে ২ কোটি টাকা। সমুদ্র থেকে মাটির পথে এসে রাহুল গোবিন্দ দেখিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্নের পথে সাহসী সিদ্ধান্তই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।

















