বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রোজভ্যালি কাণ্ডে ফের বড়সড় মোড়। ইডি (ED) সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ঠিক পরের দিনই বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগে এবার তদন্ত শুরু করতে চলেছে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO)। এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)।
১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ আদালতের (Calcutta High Court)
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই SFIO-কে প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। আদালতের (Calcutta High Court) নির্দেশ অনুযায়ী, সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রাথমিক রিপোর্টে যদি কোনও অনিয়মের ইঙ্গিত মেলে, তবে পরবর্তী ধাপে ফরেনসিক অডিট শুরু হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে বেঞ্চ। এই তদন্ত শুরু করতে হলে বিধি মেনে দ্রুত SFIO-কে অনুমোদন দিতে হবে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রককে। বিষয়টি যাতে কোনও ভাবে আটকে না থাকে, সে দিকেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন ডিভিশন বেঞ্চ ফের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে। আদালতের প্রশ্ন, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দিলীপ শেঠ কমিটি কেন টাকা ফেরানো বন্ধ করে দিয়েছে? একাধিকবার আদালতের তরফে বলা হয়েছে, টাকা ফেরাতে কোনও আইনি বাধা নেই। তবু বাস্তবে ভুক্তভোগীরা টাকা পাচ্ছেন না। কেন পাচ্ছেন না, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও কারও কাছে নেই বলে মন্তব্য করেছে আদালত (Calcutta High Court)।
উল্লেখ্য, রোজভ্যালির সম্পত্তি নিয়ে ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ আটকে দিতে ইডি যে মামলা সুপ্রিম কোর্টে করেছিল, সোমবার সেই মামলা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। তার পরের দিনই, মঙ্গলবার, কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) বিস্তারিত গাইডলাইন দিয়ে SFIO-কে তদন্তে নামার ছাড়পত্র দিল।

আরও পড়ুনঃ অবসর না নিয়েই PF-এর ১০০% টাকা তোলা সম্ভব? জানুন নতুন নিয়ম কী বলছে
অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার পর এবার রাজ্যের অর্থ দপ্তরও রোজভ্যালি এডিসি কমিটির বিরুদ্ধে ফরেনসিক অডিটে এগোতে অস্বীকার করেছে। কিছু দিন আগে রাজ্য সরকার লিখিত ভাবে জানিয়েছে, তাদের কাছে এই ধরনের অডিট করার মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং দক্ষ জনবল নেই। রাজ্যের এই অবস্থানে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে আদালত (Calcutta High Court)। বেঞ্চের স্পষ্ট মন্তব্য, “বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।” সব মিলিয়ে এখন নজর ১২ ফেব্রুয়ারির দিকে। SFIO-এর রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে, রোজভ্যালি কাণ্ডে হাজার হাজার আমানতকারীর টাকার ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়।













