বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শয়ে শয়ে মামলা, আর এসব মামলার খরচ মেটাতেই গত ৫ বছরে আইনজীবীদের (Expenses on Lawyers) পিছনে বিপুল টাকা ঢেলেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। গত পাঁচ বছরে উকিল বাবদ রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইনের অধীনে এই তথ্যই সামনে এসেছে। আর এবার এই বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম।
ডিএ ইস্যুতে কি বললেন ফিরদৌস শামিম? Dearness Allowance
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতা। ডিএ (Dearness Allowance) দিতে গেলে রাজ্য সরকারের টাকা থাকছে না এদিকে এত টাকা আইনজীবীদের পেছনে খরচা হচ্ছে। রাজ্য সরকার কি চাইছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, ‘আমি জানি না কোন কোন সময় কোন কোন মামলার ভিত্তিতে এই টাকা খরচা করা হয়েছে। জনগণের করের টাকায় কর্মচারীদের ডিএ দেবে না।’
আইনজীবী আরও বলেন, ‘ছয়বার হারার পরও তাঁদের বোধগম্য হল না, এই ডিএ সরকারি কর্মীদের আইনসঙ্গত অধিকার। কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর মাসে মাসে ডিএ দিয়ে দিলেও তো এত চাপ পড়ত না। জনগণের করের টাকা আইনজীবীদের দিতে হত না। জনগণের করের টাকা এভাবে নষ্ট করা হবে, এটা দুর্ভাগ্যজনক।’
মলয়বাবু বলেন, ‘সরকার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে সাধারণ নিয়মেই তা সঠিক নয়। ২৪ এর এপ্রিল থেকে আমাদের ডিএ মামলা আরও ২২-২৩ বার উঠেছে। আমাদের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের তৃতীয় বেঞ্চে মামলা শুরু হয়েছিল ২৫ মার্চ, ২০২৫। সরকার বুঝে গিয়েছিল এবার একটা কিছু হতে যাচ্ছে। তাই আমরা লক্ষ্য করেছি সেখানে সব নামী-দামি আইনজীবীদের আনা হয়েছিল। অভিষেক মনু সিংভী থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত আইনজীবীরা ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে এজলাসে মুখ দেখাতে পারলেই তারা বুঝি সরকারের থেকে রেমুনারেশনটা কালেক্ট করে নিতে পারেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেছি আমরা, সেখানে গিয়ে চুপচাপ বসে ছিল। কেন বসে ছিল? লিস্টে আমরা দেখেছি ১৬-১৮ জন আইনজীবীর নাম। অর্ডার গুলোতে রয়েছে। তাঁদেরকে তো টাকা দিতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন: এক ক্লিকেই হবে মুশকিল আসান! সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে বিরাট উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার
মলয়বাবুর কথায়, ‘২৫ মার্চ, ২০২৫ থেকে ৮ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ১৩বার মামলাটা উঠেছে। কয়েকবার হয়নি তবে তারা তো উপস্থিত ছিলেন। সেইসব হিসেব ধরলে আরও অনেক বেশি। আমার আপনার করের টাকায় সরকার এভাবে যেকোনো মামলা আটকাতে চাইছে। জানে হারবে তাও আটকাতে চাইছে। লজ্জা নেই তাঁদের এসব কথা বলেও লাভ নেই।’













