বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO (World Health Organisation) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য দফতর থেকে জারি এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকছে না এবং সদস্যপদ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতীকী নজির হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত সংস্থার সদর দফতরের বাইরে থেকে ইতিমধ্যেই আমেরিকার জাতীয় পতাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করেই তারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organisation) সদস্যপদ ছাড়ল আমেরিকা
মার্কিন স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পর্যবেক্ষক হিসেবেও হুতে থাকতে আগ্রহী নয় যুক্তরাষ্ট্র। পুনরায় এই সংস্থায় যোগ দেওয়ারও কোনো পরিকল্পনা নেই। আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা এখন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার উপর নির্ভর না করে, সরাসরি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। তাদের মত হলো, আন্তর্জাতিক ফোরামের পরিবর্তে রাষ্ট্র-টু-রাষ্ট্র ভিত্তিতেই স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নে বেশি আগ্রহী ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ পাকিস্তানের উপস্থিতি, ভারতের অনুপস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক জল্পনা
মূলত বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারীর সময় থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন বারংবার অভিযোগ করে যে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে। ভাইরাসের উৎস সন্ধান, প্রাথমিক প্রস্তুতি এবং সময়মতো তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে হুর ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলে ওয়াশিংটন। এই মতভেদ ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং গত এক বছর ধরে হু থেকে সরে আসার হুমকি দিতে থাকে ট্রাম্প প্রশাসন। অবশেষে সেই হুমকি বাস্তবায়িত হলো।
বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং হুর অন্যতম প্রধান অর্থদাতা দেশের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নানা কর্মসূচি, বিশেষ করে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনায় আমেরিকার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। ফলে তাদের চলে যাওয়ায় এসব ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রকৃতির কোলে এক নিঃশব্দ সকাল উপভোগ করতে পৌঁছে যান টুমলিংয়
যদিও আইনগতভাবে এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হবে না। আমেরিকার নিজস্ব আইন অনুসারে, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বের হতে হলে কমপক্ষে এক বছর আগে নোটিস দিতে হয় এবং সমস্ত বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংস্থাটির প্রায় ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধের পরই কেবল চূড়ান্তভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহার কার্যকর হবে। তবে সমগ্র ঘটনাটি বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য কাঠামোয় এক তীব্র বিতর্কের সূচনা করেছে।













