বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্ত্রী যদি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বামীর সঙ্গে থাকতে না পারেন, তবে তাঁকে জোর করে একসঙ্গে থাকার জন্য বাধ্য করা যায় না। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে এমনটাই সাফ জানিয়ে দিল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট (High Court)। হাই কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, বৈবাহিক অধিকারের অর্থ এই নয় যে একজন স্ত্রীকে সব ধরনের অত্যাচার সহ্য করতেই হবে।
কী নিয়ে মামলা হাই কোর্টে (High Court)?
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১০ মে। ধানবাদের ফ্যামিলি কোর্ট একটি নির্দেশ দেয়, যেখানে স্ত্রীকে স্বামীর সঙ্গে ফিরে গিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে ভুল এবং অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেছে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট (High Court)। আদালত জানিয়েছে, পারিবারিক আদালত মামলার প্রমাণ সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি।
মামলায় স্ত্রী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল। স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। এমনকি স্বামীর চাকরি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েই বিয়ে করা হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে জানান। ২০১৮ সাল থেকেই স্বামী–স্ত্রী আলাদাভাবে বসবাস করছেন। স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একটি স্করপিও গাড়ি কেনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি তাঁকে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বর্তমানে ওই মহিলা পাকুরে থাকেন এবং সরকারি সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
অন্যদিকে স্বামী জিতেন্দ্র আজাদ হিন্দু বিবাহ আইনের ৯ ধারায় বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের আবেদন করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, স্ত্রী কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই আলাদা থাকছেন। কিন্তু হাই কোর্ট (High Court) সেই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি। বিচারপতি এসএন প্রসাদ এবং বিচারপতি এ কে রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, একজন মহিলাকে চাকরি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যায় না। আধুনিক সমাজে একজন নারীর আর্থিক স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে এবং চাকরি চালিয়ে যাওয়া কোনওভাবেই অনুচিত আচরণ নয়।

আরও পড়ুনঃ বাজেট পেশের আগে লক্ষী ভান্ডার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে কেন্দ্র! বন্ধ হবে কি টাকা দেওয়া? জানুন
আদালত আরও বলেছে, বৈবাহিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মানে এই নয় যে স্ত্রীকে স্বামীর শর্ত মেনে জীবনযাপন করতে হবে। বিয়েতে দু’পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। স্বামী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে স্ত্রী কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই আলাদা থাকছেন। সবদিক বিচার করে হাই কোর্ট (High Court) পারিবারিক আদালতের নির্দেশ বাতিল করে স্ত্রীর পক্ষে রায় দিয়েছে এবং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সম্মানহীন দাম্পত্যে থাকতে কোনও স্ত্রীকে বাধ্য করা যায় না।













