বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে এখন একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প (Welfare Schemes) চালু রয়েছে, যার মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় স্কিম। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষায় এই ধরনের নগদ সহায়তা প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য উঠে এসেছে। সেখানে সরাসরি প্রকল্প বন্ধ করার কথা বলা হয়নি, তবে অর্থ ব্যবহারের ধরন ও কার্যপদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে কি এই ধরনের প্রকল্পের ধরণ বদলাতে চলেছে?
সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প (Welfare Schemes) নিয়ে যুক্তিপূর্ণ সমীক্ষা
সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প (Welfare Schemes) নিয়ে আর্থিক সমীক্ষায় মূলত জোর দেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপর। সমীক্ষার বক্তব্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র নগদ টাকা মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার বদলে সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা বেশি জরুরি। কারণ শিক্ষিত ও সুস্থ নাগরিকই দেশের প্রকৃত সম্পদ। তাই ভবিষ্যতে নগদ সহায়তার পরিবর্তে মানব সম্পদ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি সাহায্যকে কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। অর্থাৎ কাউকে শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বদলে তাকে কোনো কাজ শেখানো, প্রশিক্ষণ দেওয়া বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে। এই কারণেই ‘ওয়ার্ক-বেসড সাপোর্ট সিস্টেম’ চালুর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারের খরচের ধরনে নজর
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সরকারের খরচের ধরন। সমীক্ষায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, রাজস্ব ব্যয়ের তুলনায় মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচারের দিকে বেশি নজর দেওয়া উচিত। রাস্তাঘাট, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু নির্মাণের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নে টাকা খরচ করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়ী সুফল নিয়ে আসে।
এছাড়াও আর্থিক সমীক্ষায় ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ অর্থাৎ যুবশক্তির সঠিক ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে তরুণ প্রজন্মের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই যুবসমাজকে যদি যথাযথ প্রশিক্ষণ না দিয়ে কেবল নগদ সহায়তার উপর নির্ভরশীল করে রাখা হয়, তবে দেশ বড় সুযোগ হারাবে। তাই তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং কর্মমুখী করে গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে বড় সিদ্ধান্ত, ৫০ টাকা বেড়ে গেল LPG গ্যাসের দাম
সব মিলিয়ে সমীক্ষার সারমর্ম স্পষ্ট যে, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। বরং এই প্রকল্পগুলিতে (Welfare Schemes) ব্যবহৃত অর্থ যেন মানুষের স্থায়ী উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগে, সেই দিকেই নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












