বাংলাহান্ট ডেস্ক: অবশেষে সম্পন্ন ভারত আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সত্যিকার অর্থেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে “একজন মহান বন্ধু” বলে মনে করেন, তা এবার কূটনৈতিক কথাবার্তার গণ্ডি ছাপিয়ে বাস্তব ফলাফলে প্রতিফলিত হল। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের টানাপোড়েন, দর কষাকষি ও কূটনৈতিক পরীক্ষার পর অবশেষে সিলমোহর পড়ল ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে। এই চুক্তি শুধু দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল তা নয়, একই সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের তুলনায় ভারতকে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক অবস্থানে পৌঁছে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।
আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে (India-US Trade Deal) চিন-পাকিস্তানকে পিছনে ফেলল ভারত
চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে। এই নতুন শুল্ক কাঠামোর ফলে ভারতের রপ্তানিকারকেরা একাধিক প্রতিযোগী দেশের তুলনায় সুবিধাজনক জায়গায় চলে এলেন। যেখানে চিনের উপর এখনও ৩৪ শতাংশ শুল্ক বলবৎ, সেখানে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার জন্য তা ১৯ শতাংশ। এমনকি সাম্প্রতিক কালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো পাকিস্তানকেও পেছনে ফেলেছে ভারত, কারণ ইসলামাবাদের উপর এখনও ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: সবজির আড়ালে পাচার হচ্ছে মাদক! কোটি টাকার গাঁজা উদ্ধার হল বাংলার এই জেলায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের এই সময়ে শুল্ক হ্রাস ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, চামড়া ও শ্রমনির্ভর শিল্পের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এত দিন মার্কিন বাজারে উচ্চ শুল্কের কারণে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিল ভারতের টেক্সটাইল খাত। নতুন চুক্তির ফলে সেই খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই ঘোষণাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি ট্রাম্পকে তাঁর “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক সুফলের কথা তুলে ধরেন। মোদীর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই চুক্তিকে তিনি কেবল বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখছেন।

আরও পড়ুন: আশা করে আর লাভ নেই! মাত্র ২% DA বাড়াতে পারে সরকার, কর্মীদের জন্য সামনে নয়া আপডেট
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিজেও মোদীকে তাঁর “সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন” এবং “শক্তিশালী বিশ্বনেতা” বলে আখ্যা দেন। তিনি জানান, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। পাশাপাশি হোয়াইট হাউস সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও প্রত্যাহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি ভারত–মার্কিন সম্পর্ককে নতুন অধ্যায়ে নিয়ে গেল বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।

















