বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের দিন (West Bengal Assembly Election 2026) থেকেই ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছিল। কোথাও EVM-এ টেপ লাগানোর অভিযোগ, কোথাও আবার বুথে বারবার একই ব্যক্তির প্রবেশ বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে। এত অভিযোগ জমা পড়ার পর শেষ পর্যন্ত কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণ হবে। আর সেই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে কটাক্ষ করেন, পাল্টা হুঙ্কার দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
ফলতা পুনর্নির্বাচন ও ‘ডায়মন্ড মডেল’ বিতর্ক (West Bengal Assembly Election 2026)
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) হয়েছিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে। ভোটের পর থেকেই একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়তে থাকে কমিশনের কাছে। বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়, কিছু বুথে নির্দিষ্ট প্রতীকের বোতামে টেপ লাগানো ছিল। কোথাও আবার বিজেপির বোতামে আতর লাগিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি ওঠে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই ফের ভোট হবে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “ফলতায় ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল, ২১ মে পুনর্নির্বাচন।” একই সঙ্গে ‘ডায়মন্ড মডেল’ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।
অমিত মালব্যর পোস্টের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং এবং তাদের হাতের পুতুলরা তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এ কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি বিজেপিকে ফলতায় এসে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফলতায় একাধিক বুথে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। মোট ২৮৫টি বুথের মধ্যে অন্তত ৬০টি বুথে EVM-এ কারচুপির অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৬৭টি বুথে নানা ধরনের অনিয়মের তথ্য সামনে আসে। কমিশনের দাবি, মোট ভোটারের প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটকে ঘিরে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে কোথাও ক্যামেরা বন্ধ রেখে ভোট করানো, কোথাও আবার বুথে একাধিক ব্যক্তির ভোট পরিচালনা করা। কিছু জায়গায় বারবার একই ব্যক্তির বুথে ঢোকার অভিযোগও ওঠে। পাশাপাশি বেশ কিছু বুথের CCTV ফুটেজও পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। এমনকি কোথাও চিপে বিহারের ভোটের ছবি থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ কোন জেলায় কত জন কাউন্টিং অবজার্ভার? ভোটগণনার আগে তালিকা প্রকাশ কমিশনের
কমিশনের বক্তব্য, কোনও কেন্দ্রে ১০ শতাংশের বেশি বুথে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা হয়। ফলতার ক্ষেত্রে প্রায় ২১ শতাংশ বুথ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (West Bengal Assembly Election 2026)।













