তেল-সাবানের সংস্থাকে কীভাবে উইপ্রোয় পরিণত করলেন আজিম প্রেমজি? চমকে দেবে সেই সফর

Published on:

Published on:

Amazing Success Story of tech giant Wipro will surprise you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম বড় নাম উইপ্রো। আজ বিশ্বের একাধিক দেশে ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে এই ভারতীয় বহুজাতিক সংস্থার। কিন্তু এই সংস্থাকে কিভাবে এবং কে এতটা সফলভাবে (Success Story) গড়ে তুলল তা কি জানেন? এই সংস্থার প্রযুক্তি বা কম্পিউটারের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না প্রথম জীবনে। বরং একটি ছোট বনস্পতি ও ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকেই শুরু হয়েছিল উইপ্রোর যাত্রা। আর সেই সংস্থাকেই সময়ের সঙ্গে বদলে বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্রে জায়গা করে দেন শিল্পপতি আজিম প্রেমজি।

উইপ্রো কোম্পানির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

১৯৪৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রের আমালনারে ‘ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ভেজিটেবল প্রোডাক্টস লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন মহম্মদ হাশিম প্রেমজি। সদ্য স্বাধীন ভারতের সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে ভোজ্যতেল ও কাপড় কাচার সাবান তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই সময় ভারতীয় বাজারে স্বল্পমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি। ধীরে ধীরে সংস্থাটি স্থানীয় বাজারে পরিচিতি পেতে শুরু করে। তবে তখন কেউ ভাবতেই পারেননি, এই তেল প্রস্তুতকারী সংস্থাই একদিন বিশ্বের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় পরিণত হবে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দিনও ফেরালেন রাজ্যপাল! নির্বাচনে জিতেও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না বিজয়? উঠছে প্রশ্ন

১৯৬৬ সালে হাশিম প্রেমজির মৃত্যুর পর সংস্থার দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মাত্র ২১ বছরের ছেলে আজিম প্রেমজির কাঁধে। সেই সময় তিনি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছিলেন। বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দেশে ফিরে এসে ব্যবসার দায়িত্ব নেন তিনি। বয়স কম হলেও তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে। প্রথমে তিনি সংস্থার উৎপাদনের পরিধি বাড়ান। ভোজ্যতেল ও সাবানের পাশাপাশি প্রসাধনী এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্য তৈরি শুরু হয়। ব্যবসা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে এবং সংস্থার কার্যক্রম আমালনার থেকে মুম্বইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়।

তবে আজিম প্রেমজির লক্ষ্য ছিল আরও বড়। ১৯৭৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রা আইন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে আইবিএম ভারত ছেড়ে চলে গেলে তিনি নতুন সুযোগ দেখতে পান। প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বুঝতে পেরে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার উৎপাদনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। সেই সময় অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে মনে করেছিলেন। কারণ একটি তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা হঠাৎ কম্পিউটার ব্যবসায় নামছে, এমন ভাবনা অনেকের কাছেই অবাস্তব ছিল। কিন্তু সমালোচনাকে উপেক্ষা করে আজ়িম নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে থাকেন এবং সংস্থার নাম সংক্ষেপ করে রাখা হয় ‘উইপ্রো’।

Amazing Success Story of tech giant Wipro will surprise you.
শিল্পপতি আজিম প্রেমজি

আরও পড়ুন: বিজেপি আসতেই টোল ট্যাক্স থেকে স্বস্তি, রোহিণী টোল প্লাজায় আর দিতে হবে না টাকা

আশির দশকের শেষ দিকে উইপ্রো ধীরে ধীরে প্রযুক্তি সংস্থায় রূপান্তরিত হতে শুরু করে। নব্বইয়ের দশকে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উত্থানের সময় আজিম প্রেমজি সংস্থার মূল ফোকাস আইটি পরিষেবার দিকে ঘুরিয়ে দেন। বেঙ্গালুরুকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি শিল্পের প্রসার শুরু হলে উইপ্রোর সদর দফতরও সেখানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০০০ সালে উইপ্রো নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়, যা সংস্থার আন্তর্জাতিক যাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক। ২০১৯ সালে আজিম প্রেমজি চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিলেও, তাঁর হাত ধরেই উইপ্রো আজ বিশ্বের বহু দেশে ব্যবসা করা ভারতের অন্যতম সফল (Success Story) প্রযুক্তি সংস্থায় পরিণত হয়েছে।