প্রতিমাসে বিধবা ভাতা ডাক্তারের অ্যাকাউন্টে! ‘চুরি’ ফাঁস হতেই শ্রীঘরে ‘লক্ষী’ ছেলে

Published on:

Published on:

Doctor Arrested in Medinipur after receiving Widow Pension despite being male and married
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যের মানুষেদের সুবিধার্থে যে একাধিক প্রকল্প চালু করেছিল তৃণমূল সরকার তারই একটি হল ‘বার্ধক্য ভাতা’ (Widow Pension)। নতুন সরকার আসার পর থেকেই ‘লক্ষীর ভান্ডার’ প্রকল্পে বিস্তর জালিয়াতির খবর মিলেছে ইতিমধ্যেই। মহিলাদের পাশাপাশি একাধিক পুরুষ এই সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এবার আরও অদ্ভুত কেলেঙ্কারির খোঁজ মিলল পশ্চিম মেদিনীপুরে। সেখানে এক সধবা পুরুষের অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে ঢুকছিল ‘বিধবা ভাতা’র টাকা।

স্ত্রী বেঁচে থাকলেও বিধবা ভাতা পাচ্ছিলেন ডাক্তার!

হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই হচ্ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায়। সম্প্রতি পেশায় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার এক বছর ৬৫ এর পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে খিরাই গ্রামের যশরাজপুরের ওই ব্যক্তির নাম অমলেন্দুবিকাশ মন্ডল। গোটা ঘটনা পুলিশের নজরে আসতেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর আজ অর্থাৎ সোমবার তাকে আদালতে পেশ করা হয় জেলা আদালতে। সেখানে ওই ডাক্তারকে আপাতত তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বর্তমানে তদন্ত চলছে।

কিভাবে অ্যাকাউন্টে এল বিধবা ভাতার টাকা?

পুরুষ হয়ে কিভাবে বিধবা ভাতার টাকা পাচ্ছেইলেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে ধৃত জানান, আজ থেকে চার বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালে বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন অমলেন্দু। কিন্তু বিধবা ভাতার টাকা কিভাবে অ্যাকাউন্টে এল সেই সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি বিষয়টি জানতে পাড়ার পরেই নাকি স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধানকে জানিয়েছিলেন বলেও জানান তাঁর স্ত্রী। কিন্তু কেউ তাঁর কথায় গুরুত্বই দেয়নি।

সংবাদ মাধ্যমের তরফ থেকে ক্ষিরাইয়ের পঞ্চায়েত প্রধান পিয়াল ধল পিংলাকে এই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, মিথ্যে কথা! আমরা জানলে একটা বয়স্ক পুরুষের অ্যাকাউন্টে কি টাকা দেব নাকি। একইভাবে আরেক পঞ্চায়েত সদস্যের মতে, এই সম্পর্কে কিছুই জানা নেই। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক স্বাগত মান্না জানান, আসলে তৃণমূলের চুরির অভ্যাসের কারণে তারা লিঙ্গের ধারণাটাই ভুলে গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, অনেক পুরুষ অসৎ উপায়ে লক্ষীর ভান্ডারের টাকা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই একাধিকজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারও করা হয়েছে। সোমবার এই নিয়ে নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এই ‘লক্ষী’ ছেলেদের সংখ্যা বিশাল। তবে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না, যারা লক্ষীর ভান্ডারের টাকা লুট করেছে তাদের ধরার জন্য সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিজিপিকে।