বাংলা হান্ট ডেস্ক: জুন মাস থেকে রাজ্যের মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Scheme) টাকা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩ জুন থেকে প্রকৃত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। এবার এ বিষয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ফর্ম ফিল আপ করে নাম নথিভুক্তির কাজ করার জন্য ২২ জন সচিব এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পর্যায়ের অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্যের ২২ টি জেলার জন্য ২২ জন অফিসার নিয়োগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। পাশাপাশি মঙ্গলবার প্রকল্পের সূচনা উপলক্ষে তিনি জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
৩ জেলা নিয়ে বৈঠক আজ থেকে শুরু অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Scheme)
এছাড়াও এই অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য চালু করা একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতিমাসে সরাসরি তাদের আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এছাড়াও এই প্রকল্পে অনুযায়ী ১ জুন থেকে রাজ্য জুড়ে ৯০ দিনের বিশেষ নথিভুক্তিকরণ অভিযান শুরু হয়েছে (Annapurna Scheme)।

আরও পড়ুন: উইকএন্ড ট্রিপে খুঁজছেন নতুন ঠিকানা? পাহাড় আর চা-বাগানের মাঝে জুরান্তি হতে পারে সেরা পছন্দ
যেখানে নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্পকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি ক্যাম্প এবং মাঠ পর্যায়ে আধিকারিকেরা আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। এবার এক নজরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায় তা বুঝে নিন। লক্ষীর ভাণ্ডারে সাধারন শ্রেণীর মহিলারা মাসিক ৫০০ টাকা ও তপসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা হাজার টাকা করে পেতেন।
পরবর্তীকালে সেই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা জাতি ধর্ম বা সম্প্রদায়ের নির্বিশেষে সকল মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে পাবেন। নতুন প্রকল্পে উপভোক্তাকারীর ক্ষেত্রে যাচাই অনেক বেশি কঠিন হতে চলেছে। এখানে আয়কর দাতা, সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় বাইরে থাকবেন। তবে জেনে নিন কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে-
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আয়করদাতা হওয়া যাবে না।
সরকারি বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া চলবে না।
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মী হওয়া যাবে না।
নিয়মিত সরকারি বেতন বা পেনশন গ্রহণ করা যাবে না।
কীভাবে আবেদন করবেন?
অনলাইন এবং অফলাইন-দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে।
সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল থেকে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে। পোর্টাল চালু হওয়ার পর ফর্ম স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করা যাবে।
আবেদনপত্রে যে তথ্য দিতে হবে
আধার নম্বর
ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC) নম্বর
প্যান কার্ডের তথ্য
পরিবারের প্রধানের নাম
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
বার্ষিক পারিবারিক আয়
ডিজিটাল রেশন কার্ডের হাউজহোল্ড আইডি (যদি থাকে)
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
আদনকারীর পেশা
পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
আবেদনের সময় হাতের কাছে রাখতে হবে
আধার কার্ড
ভোটার কার্ড
ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
ঠিকানার প্রমাণপত্র বা বাসস্থানের শংসাপত্র
অফলাইন আবেদন ও বিশেষ ক্যাম্প
পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্থানীয় সরকারি অফিসে অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
এছাড়া ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে সরাসরি আবেদনের সুযোগ পাওয়া যাবে (Annapurna Scheme)।














