বাংলাহান্ট ডেস্ক: নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Noida International Airport) রানওয়ে থেকে সোমবার উড়ে গেল শুধু একটি বিমান নয়, সঙ্গে উড়াল দিল ১৭০ জন কৃষকের বহুদিনের স্বপ্নও। যাঁদের জমির উপর গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর, সেই জমিদাতা কৃষকদের নিয়েই সম্পন্ন হল বিমানবন্দরের প্রথম প্রতীকী যাত্রী উড়ান। প্রথমবার বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বহু কৃষক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মিথিলেশ সিংয়ের মতো অনেকে, যাঁরা এতদিন শুধু দূর থেকে বিমান উড়তে দেখেছেন, কিন্তু কোনওদিন তার ভিতরে বসার কথা কল্পনাও করেননি। এদিন তাঁদের চোখে ছিল ভয়, বিস্ময়, আবার একইসঙ্গে গর্ব ও আনন্দের ঝলক।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Noida International Airport) থেকে প্রথম ফ্লাইট উড়ল জমিদাতা কৃষকদের নিয়ে:
সোমবার ভোর থেকেই নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Noida International Airport) জমায়েত হতে শুরু করেন কৃষকরা। মোট ১৭০ জন জমিদাতা কৃষকের মধ্যে ছিলেন ২০ জন মহিলা। কারও কাছে এটি ছিল জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা, কারও কাছে বহু বছরের ত্যাগ ও অপেক্ষার সম্মানজনক স্বীকৃতি। সকাল ৮টা নাগাদ তাঁরা লখনৌগামী বিমানে আরোহন করেন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে এই বিশেষ উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া কৃষকদের সম্মান জানানো। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেওয়ারের বিধায়ক ধীরেন্দ্র সিং। জানা গিয়েছে, লখনৌ পৌঁছে কৃষক প্রতিনিধিরা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাবেন।
আরও পড়ুন: জেলায় জেলায় বৃষ্টির তাণ্ডব! দক্ষিণবঙ্গে ঝুপ করে নামবে তাপমাত্রা? আবহাওয়ার খবর
তবে এই ঐতিহাসিক উড়ানের আগে আরও একটি বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী থাকে নয়ডা বিমানবন্দর। সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে লখনৌয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ে আসা ইন্ডিগোর একটি যাত্রীবাহী বিমান নয়ডার রানওয়েতে অবতরণ করে। এটিই ছিল বিমানবন্দরের প্রথম আনুষ্ঠানিক অবতরণকারী বিমান। বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করতেই উপস্থিত যাত্রী ও আধিকারিকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিমানটিকে ঐতিহ্য মেনে ওয়াটার ক্যানন স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। বিমান চলাচলের ইতিহাসে এই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে নির্মিত এই নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পগুলির অন্যতম। গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন। প্রায় ২৯,৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রয়েছে ৩,৯০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, অত্যাধুনিক ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) এবং উন্নত এয়ারফিল্ড লাইটিং ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দর ভবিষ্যতে উত্তর ভারতের বাণিজ্য, পর্যটন এবং শিল্পোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীন স্লোভাকিয়ায় এই প্রথম পা রাখলেন কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী! রুটি-লবণে বরণ মোদীকে
এই বিশেষ উড়ান শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং উন্নয়ন ও মানুষের অংশীদারিত্বের এক প্রতীক হিসেবেও উঠে এসেছে। যাঁদের জমির উপর দাঁড়িয়ে আজ বিশ্বের সঙ্গে সংযোগের নতুন দরজা খুলেছে, তাঁদের হাত ধরেই শুরু হল বিমানবন্দরের (Noida International Airport) যাত্রা। উন্নয়নের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের স্বার্থকে যুক্ত করার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেক কৃষকের কথায়, জমি হারানোর কষ্ট থাকলেও আজ তাঁদের মনে হচ্ছে, সেই ত্যাগ বৃথা যায়নি। কারণ তাঁদের মাটিতেই গড়ে উঠেছে ভবিষ্যতের ভারতের এক নতুন পরিচয়।













