বাংলা হান্ট ডেস্ক : আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শেষকৃত্য নিয়ে ওঠা বিতর্কের সূত্র খুঁজতে এবার পানিহাটি শ্মশানে গেল সিবিআই (CBI)। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, নিহত চিকিৎসকের দেহ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে দাহ করার পিছনে কোনও চাপ কাজ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা।
আরজিকর কান্ডে (RG Kar Case) পানিহাটি শ্মশানে সিবিআই
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দলের চার সদস্য পানিহাটির শ্মশানে পৌঁছে সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই রাতের নথিপত্রও পরীক্ষা করে দেখেন তাঁরা। বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয় দেহ সৎকারের সময়কার রেজিস্টার এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য।
পানিহাটির শ্মশানের এক কর্মীর কথায়, “আমরা তো জানতাম না এরকম প্যাথেটিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্ঘটনা তখন তো আমরা জানতাম না। আমরা তখন জানতাম নর্মাল একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। পাড়ার মেয়ে, পাড়ার ডাক্তার। কাউন্সিলর, MLA এরা সব ছিলেন, পুলিশও ছিল। আগে দু’টো বডি ছিল তারা বলল যে ঠিক আছে, ওটা আগে হয়ে যাক। সোমনাথ দে, নির্মল ঘোষ এঁরা ছিলেন”।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের মধ্যেই কর্তব্যরত অবস্থায় এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুন করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত তাঁর দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
উল্লেখ্য, এর আগে মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির চালক বলেছিলেন,”পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে দেখি সব রেডি। পোড়ানোর সব তৈরি। পুলিশ দৌড়ে এসে ৫০০ টাকা দিয়ে আমায় ছেড়ে দেয়”।নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎকালীন পানিহাটি পুরসভার কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা সোমনাথ দে-র নাম উঠে আসে। পাশাপাশি তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
সেই রাতের ঘটনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শ্মশানের কর্মীদের একাধিক প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, দাহক্রিয়ার সময় কী ঘটেছিল, কার নির্দেশে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়েই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আর এক শ্মশানকর্মী বলেন, “একটা পোস্টমর্টেম বডি আসে সন্ধে খুব জোর ৬টা থেকে ৭টা , ৮টা – এর পরে আর পোস্টমর্টেম বডি সচরাচর আসে না। একটা যখন ১১টার সময় এসেছে তার মানে এটা নিয়ে সারাদিন নাজেহাল চলেছে। আমরা তো তখন জানি না, কিছু ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে রহস্য আছে। রেজিস্টার খাতা দেখতে চাইলেন। দেখলেন যে কী লেখা আছে না আছে, কীভাবে হয়েছে, ওগুলোই সব দেখলেন।”

আরও পড়ুন :বুলডোজারের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াল হাই কোর্ট! পুর্নবাসন-নির্দেশে স্বস্তি হাজারো বৈধ হকারের
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আর জি কর মামলার তদন্তে নতুন করে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই সিবিআইয়ের একটি দল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে তদন্ত চালায়। এবার সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে ৯ অগাস্ট রাতের ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন দিক পুনরায় খতিয়ে দেখা হল।













