বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) রিলায়েন্স জিও এবার বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনকুবের ইলন মাস্কের (Elon Musk) সংস্থা স্টারলিঙ্ককে টক্কর দিতে চলেছে। ইতিমধ্যেই স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জগতে এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। এই আবহে একটি রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, রিলায়েন্স জিও আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং ডাইরেক্ট-টু-ডিভাইস অর্থাৎ সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে মোবাইলে সিগন্যাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। ET-র রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, কোম্পানিটি তার স্যাটেলাইটগুলিকে লো-আর্থ-অরবিটে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যেগুলির সংখ্যা ১৬০০ থেকে ১৬৫০-এর মধ্যে হতে পারে।
বড় পরিকল্পনা মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani):
সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে: রিপোর্ট অনুসারে মুকেশ আম্বানির সংস্থা এই প্রসঙ্গে স্পেস রেগুলেটরি বডি ‘ইন-স্পেস’-এর কাছে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। অনুমোদন পেলে, রিলায়েন্স জিও এবং স্টারলিঙ্ক উভয়েরই স্যাটেলাইট লো-আর্থ-অরবিটে থাকবে। যা ভারতকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য সরকারকে নতুন বিকল্প দেবে।

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা: ভারতে এখনও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হয়নি। স্টারলিঙ্ক, এয়ারটেল-ওয়ানওয়েব এবং জিও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির সঙ্গে এই পরিষেবার জন্য আবেদন করেছে। পূর্বে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, স্টারলিঙ্ক অনুমোদন পাবে না। তবে, সরকার এমন কিছু জানায়নি। বরং, সরকার সমস্ত সংস্থার আবেদন পর্যালোচনা করছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার চায় না যে ভারতে উপলব্ধ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সিগন্যাল আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করুক।
আরও পড়ুন: একের পর এক চমক Apple-এর! আরও শক্তিশালী হবে iPhone 18!, Siri AI-র জন্য থাকবে বেশি RAM
স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে প্রথম ভারতীয় সংস্থা: জানিয়ে রাখি যে, এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় সংস্থা স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করেনি। এমতাবস্থায়, জিও অনুমোদন পেলে, তারা লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট জগতে প্রবেশকারী প্রথম ভারতীয় সংস্থা হবে। বর্তমানে, লো-আর্থ অরবিটে স্টারলিঙ্কের বচেয়ে বড় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক রয়েছে। ইলন মাস্কের এই সংস্থা ইতিমধ্যেই মহাকাশে প্রায় ১০,০০০ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। তারা ৩০,০০০ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট স্যাটেলাইট পাঠানোর জন্য মার্কিন সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে।
আরও পড়ুন: হবে ৭৪ টি ম্যাচ! কবে থেকে শুরু ২০২৭-এর IPL? সম্ভাব্য দিনক্ষণ জানালেন BCCI সচিব
জিও-র প্রবেশে ভারত কী কী সুবিধা পাবে: উল্লেখ্য যে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট জগতে রিলায়েন্স জিও-র প্রবেশের ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে বিদেশি নির্ভরতা হ্রাস। জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশই বিদেশি স্যাটেলাইট সংস্থাগুলির উপর তাদের নির্ভরতা কমাতে চায়। ET টেলিকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন আধিকারিক জানান যে, একটি ভারতীয় সংস্থা এই ক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। এমতাবস্থায়, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন তথা ITU-র কাছ থেকে অরবিটাল স্লট পেতে জিও-কে সরকার পূর্ণ সমর্থন দেবে বলেও জানা গিয়েছে। এছাড়াও, যদি অন্য কোনও ভারতীয় সংস্থা এই সেক্টরে প্রবেশ করে, তাহলেও সরকার তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। তবে, এই বিষয়ে জিও বা ইন-স্পেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
















