বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। জাতীয় শিক্ষা নীতির বাস্তবায়নের পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে পিএম শ্রী (PM Shri Scheme) স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ শিক্ষা প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে শিক্ষামহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
পিএম শ্রী (PM Shri Scheme) প্রকল্প আসলে কী ?
দেশের সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে আধুনিক শিক্ষার মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্র সরকার ‘প্রাইম মিনিস্টার’স স্কুল ফর রাইজিং ইন্ডিয়া’ বা পিএম শ্রী কর্মসূচি চালু করে। এর মাধ্যমে নির্বাচিত স্কুলগুলিকে এমনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সেগুলি ভবিষ্যতের শিক্ষার আদর্শ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর অধীনে তৈরি হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল নির্বাচিত সরকারি বিদ্যালয়গুলিকে ‘মডেল স্কুল’-এ রূপান্তর করা। পাঠদানের নতুন পদ্ধতি, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়নমূলক শিক্ষা এবং উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের আরও যুগোপযোগী শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হবে। শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষার উপর নির্ভর না করে, শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পিএম শ্রী প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় এক কৃতী ছাত্রছাত্রী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি করে পিএম শ্রী স্কুল খোলা হবে।”
পিএম শ্রী বিদ্যালয়গুলিকে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সাজানো হবে। স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল বোর্ড, বিজ্ঞান গবেষণাগার, আধুনিক লাইব্রেরি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মতো পরিকাঠামো সেখানে থাকবে। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি ব্লক থেকে সর্বাধিক একটি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এই সুযোগ পেতে পারে।

আরও পড়ুন : টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়, ভেসে গেল দুধিয়া সেতু, বিচ্ছিন্ন শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ
এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য বিদ্যালয়গুলিকে নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। শহরাঞ্চলের স্কুলগুলির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ স্কোর অর্জন করা বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিদ্যালয়ের তালিকা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কাছে পাঠাবে। এরপর স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কমিটি যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। দেশজুড়ে বর্তমানে ১৩ হাজারেরও বেশি বিদ্যালয় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশ।













