বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তথা FTA (India-UK FTA) আগামী মাসের ১৫ তারিখে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হতে চলেছে। এর অর্থ হল, এবার ব্রিটেনের বাজারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যগুলি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়টি বিশ্ববাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ। এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর ভারতীয় রফতানিকারীরা ব্রিটেনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর তথা শুল্ক ছাড় পাবেন। যদিও, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত-ব্রিটেন বাণিজ্যিক সম্পর্ক যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে পড়শি দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বাণিজ্য। মূলত, যখন ভারতীয় পণ্য অত্যধিক শুল্ক ছাড়াই ব্রিটেনে পৌঁছাবে, তখন সেগুলির দাম কম হবে। এর ফলে ব্রিটিশ ক্রেতারা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের দিকে ঝুঁকবেন। এমতাবস্থায়, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বাজার সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত-ব্রিটেনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (India-UK FTA) ঘুম উড়ল পাকিস্তান-বাংলাদেশের:
প্রতিবেশী দেশগুলির রফতানি সরাসরি প্রভাবিত হবে: জানিয়ে রাখি যে, এই চুক্তি বাস্তবায়নের পর ব্রিটেনে পাকিস্তানের রফতানি প্রায় ২ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে। এদিকে, বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ৬ শতাংশের ধাক্কা খেতে পারে। এর প্রধান কারণ হল, ব্রিটিশ বাজারে যেসব পণ্যের ক্ষেত্রে এই দেশগুলি ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, সেই সব শ্রেণির পণ্যে এখন ভারতীয় পণ্যের আরও ভালো প্রবেশাধিকার মিলবে। আমরা যদি ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে যে, ব্রিটেনে ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ১৫.১৭ বিলিয়ন ডলার। যেখানে বাংলাদেশের রফতানি সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র ৫.০৭ বিলিয়ন ডলারে তানের অবস্থা ছিল আরও খারাপ। তাই, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ভারতের ইতিমধ্যেই শক্তিশালী এক্সপোর্ট বেস নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে চলেছে।

চাল রফতানিতে পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে পড়বে: বিশ্বের চালের বাজারে ভারত বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই ভারত ব্রিটেনে প্রায় ১৪৯.৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মিল্ড ও সেমি-মিল্ড চাল বিক্রি করেছে। অপরদিকে, পাকিস্তান মাত্র ৪৩.৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের চাল রফতানি করতে পেরেছে। চালের অন্য একটি বিভাগে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ ছিল ৯৪.৫ মিলিয়ন ডলার। যা থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান উভয়কেই ছাড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায়, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর শুল্ক কমে যাবে। ফলে ব্রিটেনে ভারতীয় চাল আরও সস্তা হয়ে যাবে। অর্থাৎ, সেখানে পাকিস্তানের পক্ষে চাল বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। যেটি পাকিস্তানের প্রায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: আচমকাই বড় ঘোষণা BCCI-র! ভারত-আফগানিস্তান সিরিজে এন্ট্রি এই তারকা খেলোয়াড়ের
প্রভাবিত হবে বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর: এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পও প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্রিটেনে রেডিমেড গার্মেন্টসের বাজারে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান রয়েছে। কিন্তু এখন, ভারতীয় বস্ত্র পণ্যের ওপর দেওয়া শুল্ক এই পুরো সমীকরণকে বিঘ্নিত করবে। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনে বাংলাদেশের রফতানির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৯৮.২ মিলিয়ন ডলার। যা সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮৮.৩ মিলিয়ন ডলার শুধু টেক্সটাইল সেক্টর থেকেই আসে। স্পষ্টতই, ভারতীয় বস্ত্র কোম্পানিগুলি এখন ব্রিটেনে বাংলাদেশি ব্যবসাগুলোকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে।
আরও পড়ুন: ৫৫ টি চার, ৮ টি ছক্কা! বৈভবের পর বিহারের নতুন ‘বিস্ময়’ ১৯ বছরের অক্ষরা, করলেন ৩০৬ রান
কোন কোন সেক্টরে বজায় থাকবে ভারতের আধিপত্য: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা শুধু চাল ও টেক্সটাইল সেক্টরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং, ভারতীয় কোম্পানিগুলি ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রসেসড ফুড সেক্টরেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ঔষধ উৎপাদন সেক্টরে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। শুধুমাত্র ‘ড্রাগ ফর্মুলেশন’ বিভাগেই ভারতের রফতানির পরিমাণ ৮৮০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এখন, ব্রিটেনে শুল্ক কম হওয়ায়, ভারতীয় ঔষধ কোম্পানিগুলি তাদের পরিধি প্রসারিত করার এক বিরাট সুযোগ পাবে। এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে মনে করেন যে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি শুধু ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে বাণিজ্যই বৃদ্ধি করবে না, বরং এশিয়া থেকে রফতানির সমগ্র কাঠামোতেও পরিবর্তন আনবে। ইউরোপের বিশাল গ্রাহকের বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য এটি ভারতের সামনে এক বিরাট সুযোগ হিসাবেও বিবেচিত হবে।
















