বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রায় ৪ মাসের যুদ্ধের সঙ্কটের পর অবশেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকা-ইরানের শান্তিচুক্তির পর হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে, শুধু পথ খুলে দিলেই সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল শুরু হবে না। বরং, কোন পণ্যবাহী জাহাজ সবার আগে তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ভারত সহ অন্যান্য দেশ।
হরমুজ (Strait of Hormuz) খুলে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে লাগবে কতদিন?
আগে কোনটা আসবে LPG, নাকি তেল: জানিয়ে রাখি যে, ভারতের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির বিষয় যে সরকার এবং তেল কোম্পানিগুলি LPG সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালীতে পরিষেবা পুনরায় চালু হলে, LPG বহনকারী জাহাজগুলি প্রথমে ভারতে পাঠানো হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত: উল্লেখ্য যে, ভারতের বেশিরভাগ গ্যাস ও তেল উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আমদানি করা হয়। হরমুজ সঙ্কটের সময়ে LPG সরবরাহ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে এর দামও বেড়ে গিয়েছিল। যার প্রতিক্রিয়ায়, ইন্ডিয়ান অয়েল ইতিমধ্যেই LPG এবং অপরিশোধিত তেল পরিবহণের জন্য জাহাজের ব্যবস্থা করেছে। সংস্থাটি একটি VLGC এবং বড় তেল ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে। এমতাবস্থায়, LPG কার্গো জুনের শেষ সপ্তাহে এবং জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে লোড করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আর নয় অপেক্ষা! শেয়ার বাজারে আলোড়ন তুলবে Jio-র IPO, বড় ঘোষণা মুকেশ আম্বানির
১০ থেকে ১১ দিনের সময়: মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার পর প্রথমে আটকে পড়া জাহাজগুলিকে মুক্ত করা হবে। তারপর নতুন পণ্য বোঝাই করা হবে এবং এরপর জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে। বাজার বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, আগামী ১০ থেকে ১১ দিনের মধ্যে সামুদ্রিক যান চলাচল দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং জ্বালানি পণ্যের চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে, বিমা ছাড়পত্র, নিরাপত্তা যাচাই এবং পণ্য পরিবহণে বিলম্বের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন: ব্যবসায় মিলবে মোক্ষম ঝটকা! ভারত-ব্রিটেনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ঘুম উড়ল পাকিস্তান-বাংলাদেশের
ভারত কতটা লাভবান হবে: জানিয়ে রাখি যে, ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৪০ শতাংশেরও বেশি এবং LPG-র চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে। সুতরাং, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় ভারত যে অত্যন্ত লাভবান হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। LPG এবং অপরিশোধিত তেলের নিয়মিত সরবরাহ অভ্যন্তরীণ বাজারের সমস্যা দূর করবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরেও চাপ কমতে পারে। যা ভারতের আমদানি ব্যয় কমাতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এটা ধরে নেওয়া যায় যে, শীঘ্রই সাধারণ মানুষের পকেটের জন্যও স্বস্তির খবর মিলতে পারে।
















