পোলিও আক্রান্ত পা, বিক্রি করতেন চুড়ি! ছিল না বাবার শেষকৃত্যে যাওয়ার টাকাও, আজ IAS অফিসার রমেশ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর কাছে UPSC শুধু একটি পরীক্ষা নয়, বরং স্বপ্নপূরণের অন্যতম বড় মঞ্চ। তবে কিছু সাফল্যের গল্প (Success Story) থাকে, যা পরীক্ষার ফলাফলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার বাসিন্দা রমেশ গোরখ ঘোলাপের জীবনকাহিনি তেমনই এক অনুপ্রেরণার গল্প। চরম দারিদ্র্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং একের পর এক ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েও তিনি হার মানেননি। বরং প্রতিটি বাধাকেই শক্তিতে পরিণত করে পৌঁছে গিয়েছেন দেশের প্রশাসনিক পরিষেবার শীর্ষে।

রমেশ ঘোলাপের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

শৈশব থেকেই সংগ্রাম ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। বাবার ছোট্ট সাইকেল মেরামতের দোকানের আয়েই চলত সংসার। কিন্তু বাবার অসুস্থতার পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মা বিমল ঘোলাপের কাঁধে। সংসার চালাতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুড়ি বিক্রি করতেন তিনি। মায়ের সেই কঠিন লড়াইয়ে পাশে দাঁড়াতেন রমেশও। ছোটবেলায় স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি ভাইকে নিয়ে চুড়ি বিক্রি করতেন তিনি। এর মধ্যেই পোলিওর কারণে তাঁর বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কখনও নিজের ভবিষ্যতের পথে বাধা হতে দেননি (Success Story)।

আরও পড়ুন: পরীক্ষায় সফল হয়ে মিলেছে ‘ফুল মার্কস’! ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াবে ‘গরুড়াস্ত্র’, অবাক করবে ক্ষমতা

রমেশের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়। সেই সময় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। পড়াশোনার কারণে তিনি গ্রামের বাইরে ছিলেন। বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ টাকা বাসভাড়া। কিন্তু সেই সামান্য টাকাটুকুও তাঁর কাছে ছিল না। প্রতিবেশীদের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পেরেছিলেন তিনি। এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা থেকে মন সরাননি। বরং সেই বছরই পরীক্ষায় ৮৮.৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলকে চমকে দেন।

সংসারের আর্থিক চাপ সামলাতে পরে D.Ed কোর্সে ভর্তি হয়ে শিক্ষকতার চাকরি পান রমেশ। পাশাপাশি দূরশিক্ষার মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রিও সম্পূর্ণ করেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ছিল আরও বড়। সাধারণ মানুষের সরকারি দফতরে হয়রানি এবং দুর্ভোগ দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, প্রশাসনের অংশ হয়েই পরিবর্তন আনতে হবে। সেই লক্ষ্যেই শুরু করেন UPSC-র প্রস্তুতি। প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। চাকরি ছেড়ে পুরো সময় পড়াশোনায় মন দেন। অবশেষে ২০১২ সালে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ২৮৭ অর্জন করে IAS হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। একই বছরে MPSC পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে নজিরও গড়েন।

আরও পড়ুন: গঙ্গাবক্ষে ড্রোন শো-তে ফুটে উঠল বাংলার ঐতিহ্য! যোগ দিবসের প্রাক্কালে তিলোত্তমায় বর্ণাঢ্য আয়োজন

আজ রমেশ ঘোলাপ শুধু একজন IAS অফিসার নন, তিনি অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে আশার আলো। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় থাকলে সাফল্যের দরজা একদিন না একদিন খুলবেই। তাঁর সাফল্যের গল্প (Success Story) আজও মনে করিয়ে দেয়— স্বপ্ন দেখতে সাহস থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়।