বাংলা হান্ট ডেস্ক : দেশের কৃষকরা প্রায়শই খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, ঝড় কিংবা বিভিন্ন রোগ-পোকার আক্রমণের কারণে ফসলহানির মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY Scheme)। ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কর্মসূচির সূচনা করেন। পুরনো কৃষি বিমা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত সুবিধা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা নিয়ে এই প্রকল্প চালু করা হয়। বর্তমানে রাজ্যের কৃষকরাও এই প্রকল্পের আওতায় নিজেদের ফসলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন।
রাজ্যের কৃষকরাও পাবেন প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (PMFBY Scheme)
চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতি হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীজ বপনের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি না হলে এবং কৃষক চাষ শুরু করতে না পারলে বিমার সুবিধা প্রযোজ্য হবে। খরা, বন্যা, জলমগ্নতা, রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে উৎপাদন কমে গেলে কৃষক ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারবেন।
ফসল কাটা হয়ে যাওয়ার পর মাঠে সংরক্ষিত অবস্থায় ঘূর্ণিঝড়, ঝোড়ো হাওয়া বা অকাল বৃষ্টিতে ক্ষতি হলে সর্বোচ্চ ১৪ দিন পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা কার্যকর থাকবে। শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস কিংবা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো স্থানীয় দুর্যোগে ক্ষতির ক্ষেত্রে পৃথক সমীক্ষার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পটিকে আরও কার্যকর করতে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্রপ ইনসুরেন্স অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেই বিমার আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি ক্ষতির তথ্যও সরাসরি আপলোড করা যাবে।
স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের প্রকৃত অবস্থা এবং উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিমাণ দ্রুত নির্ধারণের জন্য উপগ্রহচিত্র ও ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়। ন্যাশনাল ক্রপ ইনসুরেন্স পোর্টালে কৃষকরা আবেদন, প্রিমিয়াম, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা হয়।এই প্রকল্পে কৃষকদের খুব কম অঙ্কের প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়। অবশিষ্ট অর্থের দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বহন করে।খরিফ মরশুমের ফসলের জন্য বিমাকৃত অর্থের ২ শতাংশ। রবি মরশুমের ফসলের জন্য বিমাকৃত অর্থের ১.৫ শতাংশ। বাণিজ্যিক এবং উদ্যানপালনভিত্তিক ফসলের জন্য বিমাকৃত অর্থের ৫ শতাংশ।
প্রকল্প সম্পর্কিত সমস্ত পরিষেবা এক জায়গায় পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। প্রিমিয়াম সংক্রান্ত তথ্য, আবেদন প্রক্রিয়া, ব্যাঙ্কিং লেনদেন এবং দাবি নিষ্পত্তির বিভিন্ন তথ্য ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। কৃষকরা নিজেদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে লগ-ইন করে প্রয়োজনীয় পরিষেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
অনলাইন এবং অফলাইন— উভয় পদ্ধতিতেই আবেদন করা সম্ভব। সরকারি পোর্টালে গিয়ে ‘Farmer Corner’ বিভাগে মোবাইল নম্বর ও আধার নম্বরের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা যায়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখা অথবা নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও আবেদন করা যায়। আধার কার্ড, জমির মালিকানা বা রেকর্ড সংক্রান্ত নথি এবং ব্যাঙ্ক পাসবুক আবেদনকারীর কাছে থাকতে হবে।PMFBY প্রকল্পের জন্য ৪৪৪৭ নম্বরে ফোন করে অথবা ৭০৬৫৫১৪৪৪৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করেও সাহায্য পেতে পারেন।

আরও পড়ুন : সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরে কড়া বার্তা, নতুন আইন আনছে রাজ্য সরকার
কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বল্প প্রিমিয়ামে বিস্তৃত কভারেজের সুযোগ থাকায় কৃষকদের কাছে এই প্রকল্প ক্রমশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

















