বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র দুই নম্বর। অনেকের কাছে এই ব্যবধান সামান্য হলেও, একজন পরিশ্রমী ছাত্রের জীবনে তা কখনও কখনও বিশাল ধাক্কা হয়ে আসে। উত্তরপ্রদেশের মিরাটের বাসিন্দা সঙ্কেত কুমারের জীবনের সাফল্যের কাহিনিতেও (Success Story) ঠিক সেরকমই একটা বিষয় রয়েছে। ২০২১ সালে JEE Advanced পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। যে পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছিলেন, সেখানে এত অল্প ব্যবধানে ব্যর্থ হওয়া যে কোনও ছাত্রের মনোবল ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু সঙ্কেত সেই ব্যর্থতাকে নিজের ভবিষ্যতের শেষ অধ্যায় হিসেবে মেনে নেননি। বরং সেটিকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
সঙ্কেত কুমারের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনও কোর্সে ভর্তি হয়ে যান বা নিজেদের লক্ষ্য বদলে ফেলেন। কিন্তু সঙ্কেত অন্য পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন এক বছর সময় নিয়ে আবার প্রস্তুতি নেবেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেই প্রস্তুতির জন্য তিনি কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য নেননি। পরিবারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে তিনি বাড়িতে বসেই ইউটিউবের বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও, অনলাইন লেকচার এবং আগের বছরের প্রশ্নপত্রের সাহায্যে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। প্রতিদিন নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সঠিক পরিকল্পনা এবং অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।
আরও পড়ুন: NEET পরীক্ষার্থীদের জন্য ৪৫ মিনিট অপেক্ষা মোদীর! দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রইল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়
সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়। পরের বছর JEE Main এবং JEE Advanced— দুই পরীক্ষাতেই সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন সঙ্কেত। এরপর তিনি তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (IIST)-তে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। কলেজ জীবনে তিনি নিজের আগ্রহের জায়গাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। যেখানে তাঁর অধিকাংশ সহপাঠী প্রোপালশনের মতো জনপ্রিয় বিষয় বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে সঙ্কেত বেছে নেন ‘ভাইব্রেশন অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’-এর মতো অপেক্ষাকৃত বিরল একটি বিষয়। তাঁর ব্যাচে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথে একমাত্র ছাত্র ছিলেন তিনিই। নতুন কিছু শেখার আগ্রহ এবং নিজের পছন্দের ক্ষেত্রকে অনুসরণ করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল।
পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সঙ্কেত। তিনি জাপানের প্রযুক্তি সংস্থা শিনরা ইনকর্পোরেশনের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করে। IIST থেকে ৮.২ CGPA নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর তাঁর সামনে খুলে যায় জীবনের সবচেয়ে বড় দরজা। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-তে বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। খুব শিগগিরই তামিলনাড়ুর মহেন্দ্রগিরিতে অবস্থিত ISRO প্রোপালশান কমপ্লেক্সে যোগ দিতে চলেছেন সঙ্কেত। যে তরুণ একসময় মাত্র দুই নম্বরের জন্য স্বপ্নপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, সেই তিনিই আজ দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্য হতে চলেছেন।

আরও পড়ুন: পেট্রোল-ডিজেলের পর বাড়বে বাস ভাড়া! সোমবার বাসমালিকদের সাথে বৈঠক পরিবহন মন্ত্রীর
এই দীর্ঘ পথচলায় সঙ্কেতের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর পরিবার। বিশেষ করে তাঁর দাদা সবসময় তাঁকে আর্থিক ও মানসিকভাবে সমর্থন করেছেন। পরিবারের সদস্যদের চমকে দিতে তিনি ISRO-র ইন্টারভিউ কল পাওয়ার খবরও গোপন রেখেছিলেন। চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি সেই সুখবর বাবা-মাকে জানান। তাঁদের আনন্দের মুহূর্ত আজও তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি। সঙ্কেত কুমারের এই সাফল্যের গল্প (Success Story) শুধু একজন ছাত্রের ব্যক্তিগত অর্জনের কাহিনি নয়, বরং লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে এক শক্তিশালী বার্তা, একটি ব্যর্থতা কখনও জীবনের শেষ কথা নয়। সঠিক লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের উপর অটুট বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলা যায়।

















