জ্বালানি সঙ্কটের আবহেই কাতারের LNG প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ! গুরুতর যখন কমপক্ষে ৫৪, নিখোঁজ ১৮

Updated on:

Updated on:

Massive explosion at LNG plant of Qatar amidst the fuel crisis!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় কাতারের (Qatar) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রবিবার গভীর রাতে কাতারের উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বিশাল LNG (Liquefied Natural Gas) কমপ্লেক্সে আচমকাই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা শিল্পাঞ্চল ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় ঢেকে যায়। কাতার প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন এখনও নিখোঁজ। নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি সঙ্কটের আবহেই কাতারের (Qatar) LNG প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ!

ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে এর সময়কাল। মাত্র এক মাস আগেই ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে এই গ্যাস হাব লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর রাস লাফানের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ মেরামতির পর সম্প্রতি ফের এই কেন্দ্র চালু করার প্রস্তুতি চলছিল। জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এখান থেকে পুনরায় গ্যাস রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তুতির মাঝেই ঘটে গেল এই বিপর্যয়। বিস্ফোরণের পর আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য ইউনিটগুলিও ঝুঁকির মুখে পড়ে। বহু কিলোমিটার দূর থেকেও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। খবর পেয়েই দমকল, জরুরি পরিষেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে। বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও এখনও অনেকের খোঁজ মেলেনি।

আরও পড়ুন: আসল ইলিশের দামে ‘নকল’ ইলিশ গছিয়ে দিচ্ছে না তো? ফারাক করবেন কীকরে?

রাস লাফান শুধু কাতারের (Qatar) অর্থনীতির জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম LNG উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এখান থেকেই এশিয়া, ইউরোপ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ইরানের হামলার পর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে LNG সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে নতুন করে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি, কাতার প্রশাসন ইতিমধ্যেই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব কেবল কাতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এখানকার উৎপাদন বা সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহে ঘাটতি এবং জ্বালানি নির্ভর শিল্পগুলির ব্যয় বৃদ্ধি— সবকিছুর সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে। আগের হামলার সময় কাতারের LNG সরবরাহ প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে এই নতুন বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Massive explosion at LNG plant of Qatar amidst the fuel crisis!

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বাংলার ঝুলিতে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার! বড় সুখবর রেলযাত্রীদের

ভারতের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির একটি বড় অংশ কাতার (Qatar) থেকে আসে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার শিল্প, সিএনজি এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে এই গ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে রাস লাফানে উৎপাদন দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তার প্রভাব ভারতের জ্বালানি খরচ ও শিল্প উৎপাদনের উপর পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়বে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলির উপর। তাই কাতারের এই দুর্ঘটনার দিকে এখন শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারই উদ্বেগের সঙ্গে নজর রাখছে।