বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও সামনে উঠে এল বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলা (Barun Biswas Murder Case)। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এতদিন তদন্ত হলেও ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলা (Barun Biswas Murder Case) ফের তদন্তের দাবি
মামলার সমস্ত দিক পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আর্জি জানিয়েছেন বরুণ বিশ্বাসের পরিবার। বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের তরফে বনগাঁর পুলিশ সুপার এবং বনগাঁ জিআরপি থানায় লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়েছে, খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হোক। বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, “রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-সহ কয়েক জন তৃণমূল নেতা বরুণকে হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীদের মামলায় যুক্ত করা হোক।”
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৫ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশনে আততায়ীদের গুলিতে প্রাণ হারান সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের সম্পাদক বরুণ বিশ্বাস। ঘটনার পর তদন্তভার সিআইডির হাতে যায়। তদন্ত চলাকালীন মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হলেও বাকিরা বর্তমানে জামিনে ছাড়া পান। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত হয়েছে। বরুণের দিদি উর্মিলা দে বিশ্বাসের দাবি, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি রাস্তায় পড়ে ছিলেন এবং স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে তাঁকে সাহায্য করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
বরুণ বিশ্বাসের দিদি উর্মিলার বক্তব্য, “যেখানে বরুণ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন, তার কাছেই তৃণমূলের একটি কার্যালয় ছিল। সেখান থেকে কয়েক জন মানুষকে হুমকি দিয়েছিল যাতে কেউ বরুণকে উদ্ধার করতে না যায়। প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে কয়েক জন পরিচিত ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে গোবরডাঙা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।” শুধু তাই নয়, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উর্মিলা। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী সংস্থা কখনও পরিবারের বক্তব্য শোনেনি।
একইসঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। উর্মিলা বলেন, “এই মামলাটি সিআইডির হাতে গেলেও তদন্তকারীরা কোনও দিন আমাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেনি। তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণভাবে বরুণ খুনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।” বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাসও তদন্তের শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর যে অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল, সেটি তাঁর লেখা ছিল না। তিনি বলেন, “ভাইয়ের মৃত্যুর পর আমার থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যে অভিযোগপত্র নিয়ে তদন্ত শুরু হয় সেই অভিযোগ পত্রটি আমার লেখা ছিল না। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বা অন্য তৃণমূল নেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি।”

আরও পড়ুন :৩ মাস ধরে নাবালিকাকে বন্দি করে ‘গণধর্ষণ’, পরে বিয়ে! গ্রেফতার তৃণমূল নেতার দুই ছেলে
বর্তমানে মামলাটি বনগাঁ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিবারের তরফে জমা দেওয়া নতুন আবেদন ইতিমধ্যেই সিআইডির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত নিয়ে পরিবারের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ অভিযুক্তদের শাস্তি নয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য চক্রান্তকারীদের ভূমিকাও প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। সেই কারণেই নতুন তদন্তের দাবিতে তাঁরা আবারও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।

















