জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টি থেকে মন্দির সংরক্ষণে ১০০ কোটি, ফের একাধিক বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari announces Flower rain in Srabani Mela and Tirthkhetra Circuit for saving old religious sites
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: আগামী বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই রথযাত্রা (Rath Yatra)। তাই বাংলা জুড়ে চারিদিকে এখন সাজো সাজো রব। তার আগেই আজ অর্থ্যাৎ সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যবাসীর জন্য ঢালাও উপহার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানালেন এবছর রথযাত্রা উপলক্ষে একাধিক কমিটিকে আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে, শ্রাবণ মাসের জলযাত্রা (Srabani Mela) উপলক্ষে একাধিক ব্যবস্থা সহ রাজ্যের বেশ কিছু পুরনো মন্দির সংরক্ষণের কথাও।

শ্রাবণ মেলা নিয়ে বড় ঘোষণা

সামনেই আসছে শ্রাবণ মেলা। সেই প্রসঙ্গ টেনেই আজ মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘শ্রাবণ মাসে জলযাত্রীরা যান। আমি ভারতবর্ষের বহু রাজ্যে দেখেছি সরকারি ভাবে এই যে আস্থার একটি বড় পরম্পরা তাকে কীভাবে সরকার সাহায্য করে।’

রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের ব্যর্থতা নিয়েও এদিন চরম নিন্দা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, ‘কতদিন ধরে আমাদের এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল।’ তবে ছবিটা অবশ্য পাল্টাতে চলেছে এবছর। তাই এদিন শ্রাবণমেলা উপলক্ষে জলযত্রীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘যারা জলযাত্রী আমরা সরকারি হেলিকপ্টার থেকে শ্রাবণ মাসের প্রত্যেকটি সোমবার তাঁদের ওপরে পুষ্পবৃষ্টি তথা গোলাপ বৃষ্টি করারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। যদি আবহাওয়া পারমিট করে।’

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রুগীর খাদ্য থেকে মিড-ডে মিল, ৯ বছর পর বরাদ্দ বৃদ্ধি ঘোষণা শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানালেন, ‘শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর অন্তর সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে সরকার।’ প্রত্যেক জলযাত্রীর কাছে যাতে সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্য রাজ্যের মোট তিনটি ক্ষেত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির, একটি ভুটান সীমান্তে জয়ন্তী এলাকাতে আর একটি তারকেশ্বরে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখানে পুলিশের সহায়তা ক্যাম্প, টেম্পোরারি মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং জলযাত্রীদের রিফ্রেশমেন্টের জন্য জল, ওআরএস এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্য সম্মত যে সহযোগীতা করা দরকার সেগুলোর পাশপাশি থাকবে রেস্ট প্লেস বা বিশ্রামের জায়গা। তাঁর সংযোজন, ‘যেহেতু শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর প্রায় ৩০ কিলোমিটার অত্যন্ত লম্বা পথ আমরা সেই ব্যবস্থাও করেছি।’

আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোটার তালিকায় নাম তোলার নিয়ম! বাধ্যতামূলক বাবা-মায়ের এই তথ্য

মন্দির সংরক্ষণের জন্য বাজেটে থাকছে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’

নবান্ন থেকে আজ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘এবারের বাজেটে আমরা ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ নামে একটি বিশেষ ব্যাবস্থা রেখেছি।’ এরপরেই রাজ্যের একাধিক পুরনো মঠ-মন্দির সংস্কারের জন্য একহাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারীর কথায় , ‘ঐতিহ্যশালী মঠ-মন্দির ইত্যাদি সংস্কার এবং মুর্শিদাবাদের কীরীটেশ্বরি সহ অনেকগুলি প্রাচীন মন্দির রয়েছে যার পুরনো ঐতিহ্য এবং ইতিহাস রয়েছে। তাদের সংস্কার এবং হেরিটেজের আওতায় আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি আমরা। এক্ষেত্রেও আগামী দু’বছর পশ্চিমবঙ্গে এই ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এরজন্য প্রাথমিকভাবে আমরা ধর্মীয় স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষণ এবং উন্নতি করার জন্য এই বর্ষে একহাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।’ জানালেন বাবার ধাম তারকেশ্বর ধামকে ঢেলে সাজানোর জন্য ১৫ কোটি টাকার কাজ করার কথাও।

ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতাল গুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে রাখার কথাও আজ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি জানান, ‘রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন পরিচালিত বিভিন্ন বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিদ্যালয় তাদের যে সমস্ত প্রস্তাব ছিল সেই প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করেছি। ‘ এখানেই শেষ নয় বড় ঘোষণা করলেন স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সিমলা নিয়েও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ওই ক্ষেত্র আমাদের কাছে পুণ্যভূমি। সেই পুণ্যভূমিকে রক্ষণাবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে তদের সমস্যা হচ্ছে সেক্ষেত্রেও সরকার কিছুটা এগিয়ে এসেছে। সিমলা স্ট্রিটকে পাঁচ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’