বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অবশেষে জট কাটতে চলেছে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার (Singur TATA Group Factory)। পালাবদলের পর রাজ্যে এসেছে নতুন সরকার। ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিল্প থেকে স্বাস্থ্য রাজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নকে অগ্রধিকার দিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই মুম্বইয়ে টাটা গোষ্ঠীর সাথে বৈঠক সেরেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)।
টাটা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককে রাজ্য সরকার
আসলে সিঙ্গুরে দীর্ঘদিন ধরেই টাটা মোটরসের না হওয়া কারখানাকে কেন্দ্র করে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আইনি জট থেকেই গিয়েছে। সূত্রের খবর, এবার এই জট কাটাতেই টাটা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককে বসেছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের এক প্রতিনিধি।
যেমনটা জানা যাচ্ছে, সিঙ্গুর প্রকল্প বাতিল হওয়ার পর টাটা গোষ্ঠীকে মোট ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিনের বৈঠকে মূলত এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র নিজেই নাকি এই মামলার তদারকি করছেন।
আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পের’ নাম! ১০ লক্ষ পরিবারের উদেশ্যে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর
কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে আগেই টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ৭৬৬ কোটি টাকা ও তার ওপর বার্ষিক ১১% সুদ পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকী নিশ্চিত ভাবে এই ঋণ পরিশোধ করার জন্য, পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (ডব্লিউবিআইডিসি) তাদের স্থাবর সম্পত্তির তালিকা সম্বলিত একটি অঙ্গীকারপত্র জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত জমি জটের কারণে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গুর থেকে গুজরাট চলে গিয়েছিল টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানা। যদিও ততদিনে রাজ্যে এই প্রকল্পের জন্য ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করে ফেলেছিল টাটা গ্রুপ।
সূত্রের খবর, মুম্বাইয়ে এদিনের বৈঠকে বেশ ইতিবাচক আলোচনাই করা হয়েছে। এমনকী দীর্ঘদিনের এই জমি জট কাটাতে উভয় পক্ষই নাকি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকী রাজ্যে শিল্প আনতে অতীতের জটিলতা কাটিয়েও ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর।

















