ফের অপারেশন সিঁদুর হলে পাকিস্তানের পাশে থাকবে কোন কোন দেশ? সম্পন্ন নতুন চুক্তি

Published on:

Published on:

Which countries would stand by Pakistan if 'Operation Sindoor' were to take place again?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: জেদ্দায় সৌদি আরব, পাকিস্তান (Pakistan) ও তুরস্কের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে পশ্চিম এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া—দুই অঞ্চলেই কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই ‘মক্কা যৌথ চুক্তি’-তে বলা হয়েছে, তিন দেশের মধ্যে কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে চুক্তিতে প্রতিটি দেশ ঠিক কী ধরনের সামরিক বা প্রতিরক্ষা সহায়তা দেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মূল উদ্দেশ্য তিন দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইপ এর্দোয়ান।

ফের অপারেশন সিঁদুর হলে পাকিস্তানের (Pakistan) পাশে থাকবে কোন কোন দেশ?

চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) সম্পর্কের দিকেও। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানকে নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থান এবং ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-র সম্ভাবনা নিয়ে সেনার বক্তব্যের পর এই নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। ভবিষ্যতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও বর্তমান চুক্তিতে ভারতকে লক্ষ্য করে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি বা কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অবস্থানের কথা বলা হয়নি। ফলে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: বেতন বাড়বে? পেনশনেও কি মিলবে বড় সুবিধা? ৮ম বেতন কমিশনের বৈঠক ঘিরে বাড়ছে আশা

এর আগে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল। ওই হামলার জবাবে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এরপর পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের হামলার জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনী। কয়েক দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর শেষ পর্যন্ত দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় সেনার কড়া বার্তা ঘিরে জল্পনা রয়েছে।

এদিকে ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর তেহরানের তরফে সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কোনও কাগুজে প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, ইরান বা তাদের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সম্ভাব্য হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখাও এই সমঝোতার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। শিয়া-প্রধান ইরানের বিপরীতে সুন্নি-প্রধান সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের এই সমন্বয়কে কেউ কেউ তাই বৃহত্তর আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন। যদিও ‘সুন্নি ন্যাটো’ ধরনের কোনও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর কথা চুক্তিতে উল্লেখ নেই।

Which countries would stand by Pakistan if 'Operation Sindoor' were to take place again?

আরও পড়ুন: ডুবতে চলেছে বৈভব সূর্যবংশীর ক্রিকেট কেরিয়ার! বাঁচাতে পারবেন কি ঈশান কিষাণ?

ভারত এখনও এই চুক্তি নিয়ে কোনও বিস্তারিত সরকারি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শুধু জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি বিষয়টির উপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে তুরস্কের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, মক্কা চুক্তি কোনও নির্দিষ্ট দেশকে মাথায় রেখে করা হয়নি। আঙ্কারার দাবি, তিন দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানোই এর মূল লক্ষ্য। ফলে এই চুক্তি ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের এই নতুন প্রতিরক্ষা সমঝোতা যে নজরে রাখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।