ভারতের মাটিতে এই প্রথম আসছে জাপানের F-2 যুদ্ধবিমান! ঘুম উড়ল চিনের, গ্লোবাল টাইমস করল সতর্ক

Published on:

Published on:

This is the first time that Japan's F-2 fighter jet coming to India.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: একটি বড় আপডেট এবার সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, জাপান এই মাসের শেষের দিকে ভারতে (India) তাদের এফ-২ যুদ্ধবিমান (F-2 Fighter Jet) পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। যা ইতিমধ্যেই চিনের চিন্তা বাড়িয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, জাপান (Japan) এই মাসের শেষের দিকে একটি যৌথ বিমান মহড়ার অংশ হিসাবে প্রথমবারের মতো ভারতে তাদের এফ-২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে। এই ঘটনাটিকে চিনের সরকারি মিডিয়া গ্লোবাল টাইমস বেজিংয়ের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লির সঙ্গে সামরিক সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রে টোকিওর প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গ্লোবাল টাইমসে এই সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। জানিয়ে রাখি যে, জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি আগামী ১৭ অগাস্ট থেকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। নয়াদিল্লি সফরকালে শিনজিরো কোইজুমি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। যেখানে জাপান এয়ার সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স তথা JASDF-এর প্রস্তাবিত এফ-২ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের (India) মাটিতে এই প্রথম আসছে জাপানের F-2 যুদ্ধবিমান!

প্রথমবারের মতো ভারতীয় মাটিতে আসতে চলেছে জাপানি এফ-২ বিমান: এই অনুমোদন পেলে, দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে এটিই হবে জাপানি যুদ্ধবিমানের প্রথম মোতায়েন। ২০২৩ সালে দুই দেশ জাপানে তাদের প্রথম যৌথ যুদ্ধবিমান মহড়া পরিচালনা করে। যা ইন্দো-প্যাসিফিক পার্টনার দেশগুলির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অব্যাহত সম্প্রসারণকে প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য যে, এফ-২ হল জাপানের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান।  যা মার্কিন এফ-১৬-এর সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়। এদিকে, চিনের গ্লোবাল টাইমস জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলেছে টোকিও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার আবহে এই মহড়াটিকে ‘চিনকে মোকাবেলা করার’ একটি সঙ্কেত হিসাবে দেখছে।

This is the first time that Japan's F-2 fighter jet coming to India.

 

চিন কৌশলগত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে: গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে প্রস্তাবিত এই মোতায়েন ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী চিরাচরিত সীমানার বাইরে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য জাপানের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের ডিরেক্টর লিউ জোংয়ি গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছে যে, জাপান প্রতিরক্ষা রফতানি এবং বিদেশে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি ‘স্বাভাবিক’ সামরিক শক্তি হওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, ভারত জাপানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং শিল্প সক্ষমতা অর্জনে আগ্রহী।

আরও পড়ুন: অবাক কাণ্ড! মিউচুয়াল ফান্ডে আটকে রয়েছে ৩,৮১১ কোটির Unclaimed Money, জানাল SEBI

তাঁর মতে, এই অংশীদারিত্ব কৌশলগত স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং উভয় দেশই নিজ নিজ নিরাপত্তা লক্ষ্য পূরণের জন্য এই সম্পর্ককে কাজে লাগাচ্ছে। বেজিংয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে গ্লোবাল টাইমস দাবি করেছে যে, ভারত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করতে চাইলেও, নয়াদিল্লি ঐতিহ্যগতভাবে আনুষ্ঠানিক চিন-বিরোধী জোটে যোগ না দিয়ে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখেছে। জানিয়ে রাখি যে, এফ-২ মোতায়েনের এই খবরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারত ও জাপান নিয়মিত সামরিক মহড়া, রসদ চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কোয়াডের দুই অংশীদারের মধ্যকার বৃহত্তর কৌশলগত সমন্বয়কেও প্রতিফলিত করে।

আরও পড়ুন: শোকস্তব্ধ গোটা ফুটবল বিশ্ব! ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত লিওনেল মেসির বাবা

ভারতে এফ-২ পৌঁছনোর প্রসঙ্গে সতর্ক করেছে চিন: ইতিমধ্যেই চিনের এই রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, জাপান যদি এই প্রস্তাবিত মহড়াগুলিকে চিনকে প্রতিহত করার প্রচেষ্টা হিসাবে উপস্থাপন করে, তবে তা ভারতকে বেজিংয়ের সঙ্গে টোকিওর ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় টেনে আনার ঝুঁকি তৈরি করবে। ওই রিপোর্টে জাপানের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ভূমিকা নিয়ে বেজিংয়ের দীর্ঘদিনের সমালোচনারও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে, টোকিওর মিলিট্রি নর্মালাইজেশন এবং ডিফেন্স আউটরিচকে এশিয়ায় তার যুদ্ধকালীন ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত।