বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাড়ির সকলের ইচ্ছে ছিল ছেলেকে ডাক্তারি পড়িয়ে একজন মস্ত বড় সফল (Success Story) ডাক্তার বানাবেন। সেই লক্ষ্যেই তাঁকে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জায়েদ খানের (Zaid Khan) স্বপ্ন ছিল একেবারেই অন্য পথে। চিকিৎসক হওয়ার বদলে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাত্র ২৫ বছর বয়সে পাঁচ কোটি টাকার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও করে তুলেছে। জায়েদ বর্তমানে ‘জেডিটাল মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্প্রতি ‘দ্য করোড় ক্লাব’ পডকাস্টে নিজের লড়াই, সাফল্যের পথ এবং উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
জায়েদ খানের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জায়েদের জন্য এই পথ অবশ্য খুব সহজ ছিল না। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, নিট পেরিয়ে তিনি চিকিৎসক হবেন। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁর আগ্রহ ক্রমশ তৈরি হচ্ছিল ডিজিটাল মিডিয়া এবং অনলাইন কনটেন্টের প্রতি। তাই অনেকটা নিজের সিদ্ধান্তেই তিনি ডিজিটাল দুনিয়ায় কাজ শুরু করেন। বিভিন্ন ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে থাকেন। শুরুটা ছিল ছোট, কিন্তু সেই কাজ থেকেই ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। প্রচলিত নিরাপদ পেশার পথে না গিয়ে নিজের পছন্দের ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি (Success Story)।
আরও পড়ুন: হালিশহরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে মমতা, গাড়ি লক্ষ্য করে উড়ে এল চটি-জুতো, উঠল ‘ডাকাত রানি’ স্লোগান
জায়েদের জীবনে বড় মোড় আসে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার এক পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে। একটি ফ্রিল্যান্সিং অ্যাসাইনমেন্ট সম্পূর্ণ করে তিনি একবারেই প্রায় ১.২৪ লাখ টাকা আয় করেন। অল্প বয়সে পাওয়া এই পারিশ্রমিক তাঁর কাছে শুধু অর্থ উপার্জনের ঘটনা ছিল না; বরং নিজের দক্ষতাকে পেশা হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। এরপর তিনি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন, ডিজিটাল মিডিয়া এবং কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের বাজার ভবিষ্যতে আরও বড় হবে। সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনার সময় অর্জন করা জ্ঞানও কাজে লাগাতে শুরু করেন। পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং কাজের প্রতি ধারাবাহিক মনোযোগ ধীরে ধীরে তাঁকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে দেয়।
সেই পথের অন্যতম বড় মাইলফলক আসে ২০২৩ সালে। তখন জায়েদের বয়স মাত্র ২২ বছর। ওই সময়েই তাঁর ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবসা প্রথমবার এক কোটি টাকার রাজস্বের গণ্ডি পেরোয়। এত অল্প বয়সে এই সাফল্য এলেও তিনি সেখানেই থেমে থাকতে চাননি। বরং ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান বাড়ানোর প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন, দ্রুত বাড়তে থাকা একটি সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করতে হলে শুধু বাস্তব অভিজ্ঞতা নয়, উন্নত ব্যবসায়িক ধারণা ও ব্যবস্থাপনার জ্ঞানও প্রয়োজন।

এই লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জায়েদ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট বেঙ্গালুরুর এমবিএ কোর্সে ভর্তি হন। একদিকে দেশের অন্যতম কঠিন ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পড়াশোনা, অন্যদিকে নিজের সংস্থার দায়িত্ব—দুই দিকই একসঙ্গে সামলাচ্ছেন তিনি। তাঁর গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, পরিবারের চাওয়া এবং নিজের স্বপ্নের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও জায়েদ নিজের পছন্দের পথ থেকে সরে যাননি। ফ্রিল্যান্সিং দিয়ে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে ব্যবসাকে এক কোটি টাকার রাজস্বের মাইলফলকে পৌঁছে দেওয়া এবং পরে পাঁচ কোটি টাকার কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হওয়া তাঁর যাত্রাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ করে তুলেছে (Success Story)।













