বাংলা হান্ট ডেস্ক : হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে এবার বিধানসভায় সরব রাজ্য সরকার। শহরের জল জমার সমস্যা, পানীয় জলের ঘাটতি, বেহাল রাস্তা এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। এদিন হাওড়া পুরসভার সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁর দাবি, পরিকল্পনার অভাবেই বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে হাওড়াবাসীকে।
হাওড়া নিয়ে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা অগ্নিমিত্রার (Agnimitra Paul)
হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, কলকাতা ও হাওড়া—দুই শহরের ক্ষেত্রেই ওয়ার্ডের সংখ্যা এবং সীমানা নতুন করে নির্ধারণের লক্ষ্য একটাই, নাগরিকদের কাছে যাতে দ্রুত সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে হাওড়ার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথাও। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই হাওড়ার একাধিক এলাকায় দিনের পর দিন জল দাঁড়িয়ে থাকে। পাশাপাশি ছোট বাড়ি ভেঙে নিয়ম না মেনে তৈরি হয়েছে একের পর এক বহুতল। কেন কোনও কাজ হয়নি।
হাওড়া পুরসভার নির্বাচন প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্র বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। হাওড়ার পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে বড় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। পুরমন্ত্রীর বক্তব্য, বেহাল রাস্তা মেরামত, নিরাপদ ও পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ এবং স্থায়ী নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার।
প্রসঙ্গত, পরিকল্পনা কার্যকর হলে হাওড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কলকাতা পৌরসভার মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ টি করায় রাজি হয়েছে মন্ত্রীসভা। হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ৬৮ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : আগস্টেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না এলে কী করতে হবে? আবেদনকারীদের জন্য বড় আপডেট
উল্লেখ্য, শুধু ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো নয়, হাওড়ার নাগরিক পরিষেবার খোলনলচে বদলানোর লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার—এমনটাই এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এখন নজর থাকবে, প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাস এবং মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবে কতটা বদল আনতে পারে হাওড়ার দৈনন্দিন নাগরিক জীবনে।













