বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্বাধীনতা দিবসের (Independence Day) উদ্যাপনকে আরও বিস্তৃত করতে এবার একাধিক নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে পাঁচটি করে অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
স্বাধীনতা দিবস (Independence Day) নিয়ে গাইডলাইন
সোমবার দেশের সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে স্বাধীনতা দিবস ঘিরে একাধিক কর্মসূচি পালনের বিস্তারিত নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অন্য পাঁচটি রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নিজেদের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে। তবে রেড রোডে রাজ্যের মূল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কোন পাঁচ রাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, সেই তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়েও কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম জানানো হয়েছে। রাজ্য থেকে শুরু করে জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং গ্রাম পঞ্চায়েত—প্রতিটি স্তরেই সকাল ৯টার পরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য পর্যায়ে মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন। জেলা পর্যায়ে সেই দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী, কমিশনার অথবা জেলাশাসকরা।
অন্যদিকে মহকুমা ও ব্লক স্তরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত ও গ্রাম স্তরে প্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা পতাকা উত্তোলন করবেন। স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের আওতায় প্রতিটি রাজ্য ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে টানা এক মাস পরিচ্ছন্নতার কাজ চালাতে হবে।
এদিকে স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নরের বাসভবনে বিশেষ ‘অ্যাট হোম’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর এই অনুষ্ঠান করার কথা। সেখানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদেরও বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ অতিথিদের তালিকায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের রাখার কথা বলা হয়েছে। ২৫ থেকে ৫০ জন বিশেষ অতিথির জন্য আলাদা করে আসন রাখার কথাও বলা হয়েছে। শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বিভিন্ন রাজ্যের নিজস্ব খাবার নিয়েও উৎসবের আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণা যোজনার নিয়ম বদল! এই দুই ভাতা পেলেও এবার মিলবে টাকা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
দেশের প্রায় ৩৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কর্মসূচিগুলি যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বছর স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে শুধুমাত্র সরকারি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে এক মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ রক্ষা, ক্রীড়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা মানুষদের সম্মান জানিয়ে স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপনকে আরও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।













