বাংলা হান্ট ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) লালকেল্লা (Red Fort) থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে আগামী দিনের সংস্কারের একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরলেন। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে একসঙ্গে সামনে রেখে তিনি এই কর্মপরিকল্পনাকে ‘শক্তির সপ্তধারা’ বা ‘পাওয়ার অফ সেভেন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব—সবকটি ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করেই আগামী প্রজন্মের ভারতকে গড়ে তুলতে হবে। এই সাতটি স্তম্ভকে ভবিষ্যতের সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর কথাও জানান তিনি।
স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘সপ্তধারা’-কর্মসূচির ঘোষণা মোদির (Narendra Modi):
এই পরিকল্পনার প্রথম দিকেই রয়েছে উৎপাদন ক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বলেন, ভারতীয় পণ্যকে শুধু দেশের বাজারে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতার উপযুক্ত করে তুলতে হবে। পণ্যের গুণমানের পাশাপাশি উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো এবং বিশ্বমানের মানদণ্ড পূরণ করার উপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকেও বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন মোদি। তাঁর মতে, দেশের কৃষিপণ্যকে আরও উন্নতভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে হবে। ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করা গেলে কৃষক থেকে শুরু করে গোটা অর্থনীতিই তার সুফল পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনায় বড় বদল! নতুন সিলেবাসে কী কী পরিবর্তন আনছে রাজ্য?
‘সপ্তধারা’র তৃতীয় স্তম্ভ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন। ডিজিটাল পরিষেবা এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেশকে আরও দ্রুত এগোতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ নতুন প্রযুক্তিতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। এর সঙ্গে রয়েছে ‘গতিশক্তি’। উন্নয়নের গতি বাড়াতে দেশের পরিবহণ ও যোগাযোগ পরিকাঠামোকে আরও দ্রুত, নিরবচ্ছিন্ন এবং পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে এই ক্ষেত্রে। শিল্প, বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই উন্নত সংযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘রক্ষাশক্তি’। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু প্রচলিত অস্ত্র নয়, ড্রোন, সুপারসনিক প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ভারতকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সবুজ ও নীল অর্থনীতিকেও এই সাত দফা পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ করা হয়েছে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করার কথা বলেন মোদি। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাকেও এর অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।

‘শক্তির সপ্তধারা’র শেষ স্তম্ভটি হল ভারতের ‘সফট পাওয়ার’। বিশ্বের দরবারে দেশের প্রভাব বাড়াতে যোগ, আয়ুর্বেদ, সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, সৃজনশীল শিল্প এবং পর্যটনের মতো ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। তাঁর মতে, ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভাণ্ডারকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। উৎপাদন থেকে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা থেকে পরিবেশ এবং সংস্কৃতি থেকে পর্যটন—এই সাতটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে বড় ভিত্তি তৈরি করবে বলে বার্তা দেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘পাওয়ার অফ সেভেন’ শুধু সাতটি ক্ষেত্রের তালিকা নয়, বরং আগামী দিনের ভারতের সংস্কার ও উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি দিশা।













