বাংলা হান্ট ডেস্ক: শনিবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) লালকেল্লা (Red Fort) থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মাওবাদ দমনের প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দেশ থেকে মাওবাদী হিংসা নির্মূল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ১২ বছর পর সেই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘দিমাগি নক্সাল’ শব্দবন্ধ। অর্থাৎ, অস্ত্র হাতে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও যাঁরা মাওবাদী চিন্তাধারা বা মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তাঁদের চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।
এবার ‘দিমাগি নকশাল’-দের চিহ্নিত করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির (Narendra Modi):
লালকেল্লার ভাষণে দেশের উন্নয়ন ও আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে একাধিক বিষয় তুলে ধরেন মোদি (Narendra Modi)। সেই প্রসঙ্গেই মাওবাদ নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে দেশের একাধিক অঞ্চলে মাওবাদী হিংসা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। তাঁর কথায়, বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখা হয়েছিল এবং এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে তরুণ প্রজন্মের। বহু পরিবার প্রিয়জনকে হারিয়েছে, অনেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগের কথাও এদিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ‘খারাপ খবর’! এই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বঞ্চিত সুবিধা থেকে
মোদির বক্তব্য অনুযায়ী, মাওবাদ দমনের অভিযানে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে বহু পুলিশকর্মী এমনভাবে কর্তব্য পালন করেছেন, যা দেশের নিরাপত্তার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। ২০১৪ সালে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাওবাদী হিংসা বন্ধ করার জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একসময় যে এলাকাগুলিতে গুলির শব্দ শোনা যেত, সেখানে এখন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মাওবাদী প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া এলাকাগুলিতে রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মাওবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাফল্য এলেও মতাদর্শগত চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলেই মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে মাওবাদী চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কেউ কেউ সরকারি কমিটি বা নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও প্রভাব ফেলতেন বলে দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই ‘দিমাগি নক্সাল’দের উল্লেখ করে মোদি বলেন, অস্ত্রধারী মাওবাদীদের পরাজিত করা গেলেও এমন কিছু শক্তি এখনও সক্রিয় থাকতে পারে, যারা সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করবে। তাই তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে বার্তা দেন তিনি।

আরও পড়ুন:তারাপীঠে ফিরতে পারে পুরনো জৌলুস, দ্বারকা নদকে বাঁচাতে কোমর বেঁধেছে প্রশাসন
প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) এই বক্তব্যে মাওবাদী সন্ত্রাস মোকাবিলার পরবর্তী পর্যায় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সশস্ত্র হিংসার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান এবং কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা—দুই বিষয়কে এক করে দেখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা প্রয়োজন। তবে মোদির বক্তব্যের মূল বার্তা স্পষ্ট—সরকারের দাবি অনুযায়ী মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ে বড় সাফল্য এলেও দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পথে কোনও ধরনের চ্যালেঞ্জকে হালকা করে দেখতে চাইছে না কেন্দ্র। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই সেই সতর্কতার বার্তা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী।













