বাংলা হান্ট ডেস্ক: দেশজুড়ে মহাসমারোহে সম্পন্ন হচ্ছে ভারতের (India) ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day 2026)। ব্রিটিশদের পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করে ভারত বর্তমানে বহুদূর এগিয়েছে। শুধু তাই নয়, এখন আমাদের দেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রও বটে। একইভাবে, ক্রীড়াজগতে ভারতের স্বীকৃতি ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে বিস্তার লাভ করছে। ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে অলিম্পিকে সোনা জয়, ক্রীড়াজগতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা (Athletes) ভারতের হয়ে গৌরব বয়ে আনছেন। তবে, ভারতের স্বাধীনতার আগেও, এমন কিছু খেলোয়াড় ছিলেন যাঁরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে নজির গড়েছিলেন। বর্তমান প্রতিবেদনে আমরা সেইরকমই ৫ জন খেলোয়াড়ের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত করছি।
স্বাধীনতার আগেই সমগ্র বিশ্বে দাপট দেখিয়েছিলেন ভারতের (India) এই ৫ কিংবদন্তি খেলোয়াড়!
১. নরম্যান প্রিচার্ড: প্রথমেই জানাবো নরম্যান প্রিচার্ডের সম্পর্কে। ভারতের প্রথম অলিম্পিক পদকের জয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই নরম্যান প্রিচার্ডের নাম মাথায় আসে। ১৮৭৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত এই ক্রীড়াবিদকে অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ও পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ক্রীড়াবিদ হিসাবে গণ্য করা হয়। বহু-ক্রীড়ায় পারদর্শী প্রিচার্ড ১৯০০ সালের প্যারিস অলিম্পিকে ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং ২০০ মিটার হার্ডলসে রুপো জিতেছিলেন। তিনি ইংরেজ হলেও তাঁর অলিম্পিক পদকগুলি ভারতের বলে গণ্য করা হয়। প্রিচার্ডের ১২১ বছর পর নীরজ চোপড়া টোকিও অলিম্পিকে ভারতের হয়ে অ্যাথলেটিক্সে পদক জেতেন।

২. মেজর ধ্যানচাঁদ: এবারে জানাবো মেজর ধ্যানচাঁদ সম্পর্কে। মেজর ধ্যানচাঁদ, শুধু স্বাধীনতার আগেই নয়, বরং স্বাধীনতা অর্জনের পরেও ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক উজ্জ্বল নাম হিসাবে বিবেচিত হন। তাঁকে ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসাবেও মনে করা হয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা হকি খেলোয়াড় ধ্যানচাঁদ ১৯২৮, ১৯৩২ এবং ১৯৩৬ সালে পরপর ভারতের অলিম্পিক সোনা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে ধ্যানচাঁদ মাত্র ৫ টি ম্যাচে ১৪ টি গোল করে দুরন্ত রেকর্ড গড়েছিলেন। একইভাবে, ১৯৩২ সালের অলিম্পিকে তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে একাই ৮ টি গোল করেন। ভারত সেই ম্যাচটি ২৪-১ গোলে জিতেছিল। তাঁর অধিনায়কত্বেই ভারত ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে সোনা জেতে। ফাইনালে স্বৈরাচারী শাসক হিটলারের সামনে হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদ জার্মানির বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করে ভারতকে ৮-১ গোলের জয় এনে দেন।
৩. ক্যাপ্টেন রুপ সিং: মেজর ধ্যানচাঁদের ভাই ক্যাপ্টেন রুপ সিং-ও ভারতীয় হকির গর্ব ছিলেন। তিনি ধ্যানচাঁদের সঙ্গে মিলে ভারতীয় হকির স্বর্ণযুগকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন রুপ সিং সেই ভারতীয় দলের অংশ ছিলেন যেটি ১৯৩২ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে সোনা জিতেছিল। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৯৩২ সালে আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে, যেখানে ধ্যানচাঁদ ৮ টি গোল করেছিলেন, সেখানে রুপ সিং নিজে ১০ টি গোল করে। অলিম্পিক ম্যাচে কোনও হকি খেলোয়াড়ের করা সর্বাধিক গোলের রেকর্ড হিসাবে এই নজির এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
৪. কর্নেল সি কে নায়ডু: ভারতে ক্রিকেটের সূচনা হয়েছিল উনিশ শতকের শেষের দিকে। কিন্তু, টেস্ট ক্রিকেটের শুরু হয় ১৯৩০-এর দশকে। যখন ভারত ১৯৩২ সালে তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে। এই ম্যাচটি ঐতিহাসিক লর্ডস মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা হয়েছিল। সেই ম্যাচে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কর্নেল সি কে নায়ডু। যিনি ভারতের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হন। কর্নেল সি কে নায়ডু ভারতের হয়ে ৭ টি টেস্ট খেলে ৩৫০ রান করেন এবং ৯ টি উইকেট নেন। কিন্তু, তাঁর প্রথম শ্রেণির কেরিয়ারে তিনি ২৬ টি সেঞ্চুরি ও ৫৮ টি হাফ-সেঞ্চুরির সাহায্যে ১১,০০০-এরও বেশি রান এবং ৪১১ টি উইকেট নিয়েছেন।
৫. লালা অমরনাথ: ক্রিকেটে অলরাউন্ডারের ভূমিকা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমতাবস্থায়, ভারতীয় ক্রিকেটের প্রথম অলরাউন্ডার হিসাবে যিনি সত্যিকারের ছাপ রেখেছিলেন তিনি হলেন লালা অমরনাথ। স্বাধীনতার আগে ভারতীয় ক্রিকেটে প্রবেশ করে, লালা অমরনাথ ১৯৩৩ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক করেন এবং নিজের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। তিনি বোম্বে টেস্টে ১১৮ রান করে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করা প্রথম ভারতীয় হন। লালা অমরনাথই স্বাধীন ভারতে টিম ইন্ডিয়ার প্রথম অধিনায়কও হয়েছিলেন।













