ঘনিয়ে আসছে বড় সঙ্কট? AI-র দাপটে ভারতের ১০ টি ব্যাঙ্কে ‘খতম’ ১০,০০০ চাকরি

Published on:

Published on:

The workforce across 10 banks of India has shrunk by 10,000 due to the rise of AI.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় ভারতে (India) বেসরকারি ব্যাঙ্ক (Private Bank) মানেই ছিল বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। নতুন শাখা খোলা, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো এবং গ্রাহক পরিষেবা সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ত কর্মী নিয়োগও। কিন্তু সেই চেনা ছবি এখন ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। ডিজিটাল পরিষেবা, অটোমেশন (Automation) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই কমছে মানুষের উপর নির্ভরতা। ২০২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রথম সারির ১০টি বেসরকারি ব্যাঙ্কে কর্মীর সংখ্যা কমেছে ১০,১১৪ জন। এর আগের অর্থবর্ষেও এই ব্যাঙ্কগুলিতে প্রায় ৯,৬৩৭টি পদ কমেছিল। অর্থাৎ, টানা দু’বছর ধরে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

AI-র দাপটে ভারতের (India) ১০ টি ব্যাঙ্কে ১০,০০০ কর্মী সংখ্যা কমেছে:

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের চারটি বড় বেসরকারি ব্যাঙ্কে। এইচডিএফসি, আইসিআইসিআই, অ্যাক্সিস এবং কোটাক মাহিন্দ্রা, এই চার ব্যাঙ্ক মিলিয়ে ২০২৬ অর্থবর্ষে কর্মীর সংখ্যা কমেছে ১৪,৩৬৪ জন। এর মধ্যে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কে ৬,৬৩৩ জন, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে ৩,৩৪৬ জন, অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ৩,১১৬ জন এবং কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে ১,২৬৯ জনের কর্মসংস্থান কমেছে। তবে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অন্য একটি পরিসংখ্যান সামনে এলে। কর্মী কমলেও এই চারটি ব্যাঙ্ক মিলিয়ে প্রায় ১,২৮৯টি নতুন শাখা ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র চালু করেছে। অর্থাৎ, ব্যাঙ্কের ব্যবসা বা পরিকাঠামো ছোট হচ্ছে না, বরং কম কর্মী নিয়েই বেশি কাজ করার দিকে এগোচ্ছে পুরো ব্যবস্থা (India)।

আরও পড়ুন: বাবা করতেন নর্দমা খোঁড়ার কাজ! মায়ের সঙ্গে সবজি বিক্রি করা ছেলেই আজ IPS, চমকে দেবে শরণের কাহিনি

নিয়োগের পরিসংখ্যানেও সেই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। যেমন, ২০২৬ অর্থবর্ষে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক ৪৫,৯০২ জনকে নিয়োগ করেছে। অথচ দুই বছর আগে সংখ্যাটি ছিল ৮৯,১১৫। অর্থাৎ নতুন নিয়োগ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একইভাবে কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কে স্থায়ী কর্মী নিয়োগ ৩১,৬৮৬ থেকে কমে হয়েছে ১৮,৯২৭। ব্যাঙ্কগুলির বক্তব্য, প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগে যে বিপুল সংখ্যক কর্মী ব্যাক-এন্ডের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতেন, এখন সেই কাজের অনেকটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের এমডি ও সিইও শশীধর জগদীশানের মতে, প্রযুক্তির কারণে ব্যাক-এন্ডের কাজ সহজ হয়েছে এবং কর্মীদের আরও বেশি করে সরাসরি গ্রাহক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে।

এআই এবং অটোমেশনের ব্যবহার যে কতটা দ্রুত বাড়ছে, তার উদাহরণও রয়েছে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ৮৪ হাজারেরও বেশি কর্মীকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করছে এবং শাখায় আসা প্রায় ৮১ শতাংশ প্রশ্নের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর দিতে সক্ষম। আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই ১০০টির বেশি অটোমেটেড বট ব্যবহার করছে। ফেডারেল ব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে ৩৮৫টিরও বেশি কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। আবার আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের ভয়েস বট মানুষের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি উৎপাদনশীলতা দেখাচ্ছে। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুব্রত মোহান্তির মতে, গত কয়েক বছরে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সুফল এখন উৎপাদনশীলতায় দেখা যাচ্ছে এবং আগামী দিনে কর্মীসংখ্যার উপর এআইয়ের প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে।

The workforce across 10 banks of India has shrunk by 10,000 due to the rise of AI.

আরও পড়ুন: জল বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগ! গ্রেফতার দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈন

তবে এই ছবির সবটাই যে ছাঁটাইয়ের, তা নয়। ফেডারেল ব্যাঙ্ক, ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্ক এবং ইয়েস ব্যাঙ্কের মতো কয়েকটি মাঝারি মাপের বেসরকারি ব্যাঙ্কে কর্মীসংখ্যা সামান্য বেড়েছেও। ফলে গোটা খাতকে এক কথায় ‘চাকরি কমছে’ বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং বেসরকারি ব্যাঙ্কিংয়ে কাজের ধরনই বদলে যাচ্ছে। যে দায়িত্বগুলি একসময় মানুষ করতেন, তার একটি বড় অংশ এখন সফটওয়্যার, রোবট, চ্যাটবট ও এআই সামলাচ্ছে। অন্যদিকে মানুষের ভূমিকা ক্রমশ এমন কাজের দিকে সরছে, যেখানে গ্রাহকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জটিল সমস্যার সমাধানের প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞদের নজরে, আগামী দিনে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, বরং কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের ধরনই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের জায়গা।