চিন-পাকিস্তানকে নজরে রেখে নয়া সমীকরণ, প্রতিরক্ষায় ভারত-জাপানের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের (China) ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মধ্যেই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পর্ক আরও গভীর করার পথে এগোল ভারত ও জাপান (India-Japan)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh) সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। সমুদ্র নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে এই বৈঠককে শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক থেকে নয়, গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিন-পাকিস্তানকে চাপে ফেলে ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত-জাপান (India-Japan)

বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ভারত ও জাপানের (India-Japan) ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব’-কে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন, যৌথ মহড়া, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সমুদ্রের নীচে পাতা মাইন বা বিস্ফোরক মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণে জাপানের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন:ইয়েমেন-সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুর কবলে দুই মালবাহী জাহাজ, বন্দি ২২ ভারতীয়!

শুধু প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ভারত-জাপান সহযোগিতা। বিশেষ বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়েও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে চাইছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক সামরিক গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়ে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতীয় ও জাপানি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়তে পারে। প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরির পথও এতে প্রশস্ত হতে পারে।

বৈঠকে পাকিস্তানের বিষয়টিও উঠে আসে বলে সূত্রের দাবি। রাজনাথ সিং জাপানের কাছে পাকিস্তানকে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন বলে জানা গিয়েছে। ভারতের আশঙ্কা, পাকিস্তানের হাতে পৌঁছনো উন্নত প্রযুক্তি অন্য কোনও দেশের কাছেও চলে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি এবং বিজ্ঞানী এ কিউ খানের আন্তর্জাতিক পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত যোগাযোগের ইতিহাসও আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জাপানও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে ভারতকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

India-Japan are boosting their strength in the Indo-Pacific

আরও পড়ুন:আধার নিয়ে বড় সুবিধা! এক অ্যাপেই পরিবারের ৫ সদস্যের প্রোফাইল, জানুন পদ্ধতি

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন কোইজুমি। দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান (India-Japan) বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পরে মোদী জানান, ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে তাঁদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তা থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি—বিস্তৃত ক্ষেত্রে ভারত-জাপান সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হতে চলেছে। চিনের সামরিক প্রভাব বাড়ার আবহে দিল্লি-টোকিওর এই ঘনিষ্ঠতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।