সরকারের বিরুদ্ধে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ! কুশপুতুল পোড়ানো হল রাহুল-হেমন্তর, ঝাড়খণ্ডে ফের পড়ুয়া বিক্ষোভ

Published on:

Published on:

Students in Jharkhand are protesting again, accusing the govt of deception.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) ফের জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা পড়ুয়াদের দাবি মেনে গত ১৮ আগস্ট ২০১৪ সাল থেকে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এর নেওয়া একাধিক পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হেমন্ত সোরেন সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরীক্ষাগুলি বাতিলের ফলে যাঁদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের একাংশ আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাই কোর্ট পরীক্ষা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়। আর তার পরেই নতুন করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ।

সরকারের বিরুদ্ধে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগে ফের ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের বিক্ষোভ:

এর আগে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে টানা ২৩ দিন আন্দোলন করেছিলেন ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) ছাত্র-যুবরা। রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ‘JPSC-JSSC Reforms Manch’-এর ব্যানারে চলা সেই আন্দোলনে বহু পড়ুয়া অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অনশনেও বসেছিলেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবির মধ্যে ছিল নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করা এবং পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। সেই তদন্ত সিবিআই অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কোনও বিশেষ প্যানেলের মাধ্যমে করার দাবিও জানিয়েছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপেই সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

আরও পড়ুন:ইথানল নয়, চিনির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ, কী জানাল কেন্দ্র?

সরকারের সিদ্ধান্তে প্রথমে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন পড়ুয়ারা। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে যাঁদের চাকরি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তাঁদের একাংশ আদালতে মামলা করেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ইতিমধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করে এত বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হলে বহু প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই মামলার শুনানির পর হাই কোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে ফের প্রশ্নের মুখে পড়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান এবং নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, সরকার তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁদের দাবি, পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেটি আদালতে বহাল রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট জোরালো সওয়াল করা হয়নি। ফলে আদালতের স্থগিতাদেশের পর তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ফের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-যুবরা। রাতের বিক্ষোভে কয়েকটি জায়গায় হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা বাবুলাল মারান্ডি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে সরকার তরুণদের মৌলিক অধিকারেও হস্তক্ষেপ করছে।

Students in Jharkhand are protesting again, accusing the govt of deception.

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বদলে যাচ্ছে কুমোরটুলি! ১০ কোটির প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে কলকাতার নয়া হেরিটেজ স্পট

তবে বিজেপির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে পালটা আক্রমণ করেছে জেএমএম। শাসক দলের বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন এবং সেই আইনি প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বিরোধীরা অযথা রাজনীতি করছে। ফলে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে ঝাড়খণ্ডে রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনও নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। একদিকে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির তদন্তের দাবি, অন্যদিকে ইতিমধ্যে নিয়োগ পাওয়া বা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ—দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। হাই কোর্টের পরবর্তী শুনানি এবং সরকারের অবস্থান কী হয়, তার উপরই এই জটিল পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে (Jharkhand)।