উৎসবের মরসুমে চিনির দামে আগুন! কালোবাজারি রুখতে আমদানিতে কেন্দ্রের কড়া নিয়ম

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশে (India) উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার আগেই চিনির দামে (Sugar Prices) বড়সড় বৃদ্ধি চিন্তা বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের। মিষ্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাজারে চাহিদাও এখন ঊর্ধ্বমুখী। সেই পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ও মজুতদারি ঠেকাতে কাঁচা চিনি আমদানির ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু করল কেন্দ্র (Central Government of India)। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি আমদানি করার পর সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করে পরিশোধিত চিনিতে পরিণত করতে হবে। শুধু উৎপাদন করলেই হবে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই চিনি বাজারে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে দীর্ঘদিন চিনি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

চিনির দাম (Sugar Prices) বাড়তেই কালোবাজারি রুখতে আমদানিতে কেন্দ্রের কড়া নিয়ম

দেশের বাজারে গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম (Sugar Prices) যে ভাবে বেড়েছে, তাতেই কেন্দ্রের উদ্বেগের কারণ স্পষ্ট। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র এক মাসে খুচরো বাজারে চিনির গড় দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে জাতীয় গড়ে এক কেজি চিনির দাম প্রায় ৬৩ টাকা ৫ পয়সা। তবে বহু জায়গায় সেই দাম ৭৫ টাকা কেজি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। চিনি কল থেকে বেরোনোর সময়ও দাম বেড়ে প্রায় ৬২ টাকা কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অতিবৃষ্টি, আখের খেতে পোকার আক্রমণ এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎসবের আগে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতাকেও এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতিও দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে পুতিন-মোদী বৈঠকের সম্ভাবনা! রুশ প্রেসিডেন্টকে ব্রিকসের আমন্ত্রণ ভারতের

তবে দেশে আদৌ চিনির ঘাটতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে একমত নয় সংশ্লিষ্ট মহল। ভারতীয় চিনি ও বায়ো-এনার্জি প্রস্তুতকারক সংস্থা বা ISMA-র দাবি, দেশের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনির মজুত এখনও রয়েছে। তাদের মতে, বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখা গেলে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। খাদ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, অতিবৃষ্টি ও পোকার আক্রমণের কারণে চলতি বছরে চিনি উৎপাদন কিছুটা কমে প্রায় ৩০৬ লক্ষ টন হতে পারে। তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে। ফলে আমদানির পাশাপাশি বাজারে মজুত চিনি দ্রুত সরবরাহ করাও এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে কেন্দ্রের ইথানল নীতির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, জ্বালানি তৈরির জন্য আখ থেকে বেশি পরিমাণে ইথানল উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার ফলেই চিনির জোগানে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্র এই অভিযোগ মানতে নারাজ। খাদ্য সচিব সঞ্জীব চোপড়ার বক্তব্য, ইথানল নীতি বরং চিনি শিল্পকে আর্থিক ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে এর ফলে আখচাষিরাও তাঁদের প্রাপ্য টাকা সময়মতো পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। সরকারের বক্তব্য, চিনির বাজারে বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু ইথানল নীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার কোনও কারণ নেই।

Central govt imposes strict import rules to curb black marketing as sugar prices rise.

আরও পড়ুন: বাড়ির হেঁশেলে রেস্তোরাঁর স্বাদ, কলকাতা বা ব্যারাকপুর স্টাইল, এই টিপসে বিরিয়ানি হবে লাজবাব!

সব মিলিয়ে উৎসবের মরসুমে চিনির দাম (Sugar Prices) যাতে আরও না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতেই একাধিক দিক থেকে বাজারে নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্র। একদিকে আমদানির অনুমতি দিয়ে দেশে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে আমদানি করা কাঁচা চিনি দ্রুত পরিশোধন করে বাজারে ছাড়ার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন দাম বাড়াতে না পারে। কারণ উৎসবের সময়ে চিনি ও মিষ্টির চাহিদা স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ে। তাই বাজারে পর্যাপ্ত জোগান বজায় রেখে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখাই এখন কেন্দ্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।