বাংলা হান্ট ডেস্ক : দক্ষিণবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা ঘুম উড়েছে প্রশাসনের। ডিভিসির জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার জেরে দামোদর অববাহিকার একাধিক জেলায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই হুগলির দামোদর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের নিচু অংশে জল ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য নদী সংলগ্ন এলাকায় মাইকে প্রচার করে বাসিন্দাদের সতর্ক করছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে নবান্নের (Nabanna) তরফে নজরদারি শুরু হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি নবান্নের (Nabanna)
সূত্র মারফত জানা গেছে, ডিভিসি প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে। দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও ১ লক্ষ ২৩ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে বলে খবর। মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে এতটা জল কেন ছাড়তে হচ্ছে, তা জানতে ডিভিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।
রাজ্যের তরফে জল ছাড়ার মাত্রা যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জেরে মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধারে জলের পরিমাণ বেড়েছে। জলাধারের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বেশি পরিমাণে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই জল দুর্গাপুর ব্যারাজে এসে পৌঁছনোর পর সেখান থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বেড়েছে।
রাজ্যের আশঙ্কা, আজ বিকেলের পর দামোদরের নিম্ন অববাহিকার নিচু এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। জলস্তর বাড়লে নদীর আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিপদের অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষজনকে প্রয়োজনে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
শুধু দামোদর নয়, মুণ্ডেশ্বরী এবং রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে উদ্ধারকাজে দেরি না হয়, তার জন্য এসডিআরএফ-সহ বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : চালু হয়ে গেল সপ্তম পে কমিশনের ওয়েবসাইট! পরামর্শ ও মতামত জানাতে পারবেন সরকারি কর্মীরা
ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ এবং চার জেলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে বিশেষ বৈঠক হতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই মুহূর্তে বড় কোনও বিপর্যয়ের খবর না থাকলেও ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ এবং নদীর জলস্তরের উপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে। তাই দক্ষিণবঙ্গের নদী তীরবর্তী জেলাগুলিতে আপাতত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে প্রশাসন।













