বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে নাবালিকা মাতৃত্ব এবং বাল্যবিবাহের পরিসংখ্যান ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে আর শুধুমাত্র সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন না মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। নাবালিকা বিয়ে এবং তার পরিণতিতে অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঘটনা সামনে এলেই যাতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এবার আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের বিয়ে কিংবা সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজনে সরকার নিজেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ শুরু করবে। স্বামী ছাড়াও এই ধরনের বিয়ের আয়োজন বা সহযোগিতার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনার কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী,১৮ বছরের কম বয়সি মেয়ের গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের ঘটনা POCSO আইনের আওতায় রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তারপরই সেই ঘটনায় বাল্যবিবাহের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে নাবালিকা স্ত্রী সন্তানের জন্ম দিলে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তদের জেলে যেতে হতে পারে এবং সরকারি সহায়তা থেকেও তাঁদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যারা ১৮ বছরের নীচের কাউকে বিয়ে করেছে এবং কিশোরী স্ত্রীয়ের টিন–এজ ডেলিভারি হয়েছে, তাঁরা প্রথমে পকসো আইনে জেলে চলে যাবেন। আপাতত আমরা শো–কজ করেছি৷ পরে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করব আমরা। রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও পাবেন না।”
উল্লেখ্য,২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ রোধ আইনে এই ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রয়েছে। বাল্যবিবাহ করানো বা তাতে সাহায্য করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুবছরের জেল এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। শুধু বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নয়, কোনও নাবালিকার বিয়ে হতে চলেছে এমন খবর পেলেও আদালতের মাধ্যমে তা আটকানোর ব্যবস্থা করা যায়। নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে, POCSO আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারাতেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আরও পড়ুন : পেনশন কোনও দয়া নয়, স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকেই বিধবার অধিকার! জানাল সুপ্রিম কোর্ট
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নাবালিকা বিয়ে বা মাতৃত্বের ঘটনায় অভিযুক্ত যে ধর্মেরই হোন না কেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা থেকে রেহাই মিলবে না। আইনের কঠোর প্রয়োগে রাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকা মাতৃত্বের প্রবণতা কতটা কমানো সম্ভব হয়,সেদিকে নজর সকলের।













