বাংলা হান্ট ডেস্কঃ স্বামীর মৃত্যুর পর পারিবারিক পেনশন পেতে এক বিধবাকে বছরের পর বছর আইনি লড়াই করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে তিনি CAT-এ আবেদন করেছিলেন। সেই কারণে বম্বে হাই কোর্ট ২০১৪ সাল থেকেই পেনশন দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত বলেছে, স্বামী মারা যাওয়ার দিন থেকেই বিধবার পেনশন পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। আদালতে যেতে দেরি হলে সেই কারণে পেনশন কমানো যাবে না।
স্বামীর মৃত্যুর তারিখ নিয়েই তৈরি হয়েছিল সমস্যা
মামলাটি করেছিলেন এক মৃত রেলকর্মীর স্ত্রী। তাঁর স্বামী ২০০০ সালে চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। দু’জন আলাদা থাকায় স্বামীর চাকরি সংক্রান্ত অনেক তথ্যই ওই মহিলার জানা ছিল না। ২০০১ সালে তাঁর স্বামীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মহিলা আবেদন করলেও ২০১২ সালে তা খারিজ হয়ে যায়। আবেদনে দেরি এবং মৃত্যুর তারিখ নিয়ে নথিতে গরমিলের কথা বলা হয়েছিল।
এরপর স্বামীর মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানতে দেওয়ানি আদালতে যান তিনি। আদালত জানায়, মৃত্যুর সঠিক তারিখ ১২ নভেম্বর ২০০০। এরপর পারিবারিক পেনশনের জন্য CAT-এ আবেদন করেন ওই মহিলা। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে CAT তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে বম্বে হাই কোর্টে যান তিনি। হাই কোর্ট পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও জানায়, তা ২০১৪ সাল থেকে দিতে হবে। এরপর ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যান ওই মহিলা।
Supreme Court : পেনশন দয়া নয়, অধিকার
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) ওই মহিলার দাবি ছিল, স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকেই তাঁর পেনশন পাওয়ার কথা। তিনি কবে আদালতে গিয়েছেন, সেটার ভিত্তিতে পেনশন কমানো ঠিক নয়। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি শ্রী চন্দ্রশেখরের বেঞ্চ এই বক্তব্য মেনে নেয়। আদালত জানায়, কোনও বিধবাকে তাঁর প্রাপ্য পেনশনের জন্য আদালতে ঘুরতে বাধ্য করা উচিত নয়। স্বামীর মৃত্যুর পর পেনশন হিসাব করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার।
কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছিল, পুরনো মামলায় সাধারণত মামলা করার আগের তিন বছরের বেশি বকেয়া দেওয়া হয় না। সেই কারণেই ২০১৪ সাল থেকে পেনশন দেওয়ার নির্দেশ হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, এই মামলায় মহিলার কোনও দোষ ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর তারিখ নিয়ে সমস্যার সমাধান করতেও তাঁকেই আদালতে যেতে হয়েছিল। তাঁর কাছে বৈধ মৃত্যুশংসাপত্রও ছিল।
আদালত (Supreme Court) আরও জানায়, পেনশন কোনও দয়া বা অনুদান নয়। এটি একজনের অধিকার এবং সম্পত্তির অংশ। পেনশন না দেওয়া সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা অধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করাও রেল বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক ছিল না।

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা দিবসে ১০ হাজারের জমায়েত, থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা, পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি
শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছে, ওই বিধবাকে ১২ নভেম্বর ২০০০ সাল থেকেই পারিবারিক পেনশন দিতে হবে। বকেয়া টাকার সঙ্গে ৬ শতাংশ বার্ষিক সুদ দিতে হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।













