বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রযুক্তিগত সমস্যার জেরে মঙ্গলবার কার্যত অচল হয়ে পড়ল ব্রিটেনের (Britain) বিমান চলাচল ব্যবস্থা। দেশের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে গোলযোগের কারণে হিথরো, গ্যাটউইক, স্ট্যানস্টেড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর থেকে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে বহু বিমান নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে চলেছে। FlightRadar24 এবং FlightAware-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের বিভিন্ন বিমানবন্দরে এই বিভ্রাটের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। British Airways, easyJet, KLM, Lufthansa, Swiss এবং Air India-সহ একাধিক বিমান সংস্থার পরিষেবা ব্যাহত হয়। ফলে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ।
প্রযুক্তিগত গোলযোগে ব্রিটেনে (Britain )বিমান বিপর্যয়ের জেরে বাতিল ১০০০- এর বেশি প্লেন
ব্রিটেনের (Britain) ন্যাশনাল এয়ার ট্র্যাফিক সার্ভিসেস বা NATS জানিয়েছে, মঙ্গলবার তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে আচমকাই প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ইঞ্জিনিয়ারদের কাজে নামানো হয় এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয়। সকালে সমস্যার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিমান ওঠানামায় ব্যাপক দেরি হয়। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় NATS জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমাধান করা হয়েছে। তবে সিস্টেম ঠিক হয়ে গেলেও তার প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে কাটেনি। রাত পর্যন্ত ব্রিটেনের অন্তত ১৫টি বিমানবন্দরে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে খবর। বাতিল ও পিছিয়ে যাওয়া বিমানগুলির জেরে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জট সামলাতে বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়।
আরও পড়ুন: পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পথ! শিনকু লা থেকে অটল টানেল, সহজ হচ্ছে লাদাখ যাত্রা
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা কতটা বেশি ছিল, তা বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। FlightAware-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধু হিথরো বিমানবন্দর থেকেই অন্তত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গ্যাটউইক থেকে বাতিল হয়েছে প্রায় ৩০০টি বিমান এবং আরও অন্তত ২৫০টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের পরে চলাচল করেছে। এডিনবার্গ, ডাবলিন, লুটন ও বার্মিংহ্যাম-সহ আরও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরেও একই সমস্যার প্রভাব পড়ে। গোটা ব্রিটেনে British Airways-এর ৯৬টি, easyJet-এর ৯২টি, KLM-এর ২০টি, Lufthansa-র ১২টি এবং Swiss-এর ১১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলিও যাত্রীদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়।
এই বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে ব্রিটেনগামী ও ব্রিটেন থেকে উড়ে যাওয়া Air India-র পরিষেবাতেও। বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়, NATS-এর সার্ভারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ব্রিটেনজুড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সেই কারণে তাদের কয়েকটি বিমান দেরিতে চলেছে এবং কিছু পরিষেবা বাতিলও করতে হয়েছে। যাত্রীদের উদ্দেশে পরিস্থিতির কথা জানিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজেদের ফ্লাইটের স্ট্যাটাস যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু দেরি বা বাতিলের সমস্যাতেই থামেনি দুর্ভোগ। বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেককে চার ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পর জানানো হয়েছে যে তাঁদের বিমান আর উড়বে না।

আরও পড়ুন: ‘মুম্বইয়ের রাজা’ এবার কলকাতায়, শহরের সবথেকে বড় গণেশ প্রতিমার আরাধনায় বাংলাহান্ট
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের লাগেজ নিয়ে সমস্যাকে ঘিরে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাটউইক থেকে বাল্টিমোরগামী British Airways-এর একটি বিমানে প্রায় চার ঘণ্টা বসে থাকার পর যাত্রীদের জানানো হয়, পরিষেবাটি বাতিল করা হয়েছে। এরপর লাগেজ ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং লাগেজ সংক্রান্ত জটিলতায় বিমানবন্দরে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তিগত সমস্যাটি শেষ পর্যন্ত মেরামত করা হলেও তার জেরে তৈরি হওয়া বিপুল সংখ্যক বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের প্রভাব রাত পর্যন্ত বজায় ছিল। ফলে মঙ্গলবারের এই ঘটনা ফের একবার দেখিয়ে দিল, বিমান চলাচলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো কতটা গভীরভাবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং একটি বড় সিস্টেমে সাময়িক ত্রুটিও কীভাবে মুহূর্তে হাজার হাজার যাত্রীর পরিকল্পনা ও পরিষেবাকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে (Britain)।













