বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন প্রবীণ বাউলশিল্পী পূর্ণদাস বাউল (Purna Das Baul) এবং তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পুরনো জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির আশায় নতুন করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হল দাস পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পূর্ণদাস বাউল (Purna Das Baul)
পূর্ণদাস বাউলের ছেলের কথা অনুযায়ী, “আমাদের পৈতৃক ভিটেতে আশ্রম ছিল। কোপাই অশান্তির পর ২০০৮ সালে ২৪ দিনের মধ্যে আশ্রমের প্লট বদল করে সিল করে দেওয়া হয়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর একাধিকবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ও নবান্নে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। উনি গুরুত্ব দেননি কারণ জানতেন আমরা ওনার কথায় উঠতে বসতে পারব না।”
দিব্যেন্দুর কথায়, তৎকালীন সরকারের কাছে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল, তাও সুরাহা হয়নি।
পাশাপাশি বীরভূমের ইলামবাজারে থাকা তাঁদের কৃষিজমি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে পরিবার। দিব্যেন্দুর দাবি, প্রায় চার বিঘা জমি তাঁদের ছিল। অভিযোগ, সেই জমি দখল করে সেখানে নির্মাণকাজও করা হয়েছে। এই ঘটনায় চন্দ্রনাথ সিনহা ও অনুব্রত মণ্ডলের নামও অভিযোগের সূত্রে সামনে এনেছেন তিনি।
জমি উদ্ধারের জন্য থানার পাশাপাশি আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। কিন্তু দীর্ঘদিনের দৌড়ঝাঁপের পরেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে আশাবাদী পূর্ণদাস বাউল। দীর্ঘদিনের জমি-বিতর্কের অবসান হবে বলেই আশা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন : হালুয়া বেশি মিষ্টি হয়ে গিয়েছে? স্বাদ ঠিক করার সহজ উপায় জানুন
উল্লেখ্য, ওই জমিকে ভবিষ্যতে বাউল সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে দাস পরিবারের। তাঁদের ভাবনা, জমিটি উদ্ধার হলে সেখানে পূর্ণদাস বাউলের দীর্ঘ শিল্পজীবনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য একটি গ্যালারি তৈরি করা হবে। তাঁর জীবনে পাওয়া বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মান সেখানে সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেই গ্যালারিতে এসে শিল্পীর জীবন, কাজ ও বাউল সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এবার প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপ হবে এবং দীর্ঘদিনের এই সমস্যার অবসান ঘটবে বলে আশা পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পরিবারের।













