পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হচ্ছে নতুন পথ! শিনকু লা থেকে অটল টানেল, সহজ হচ্ছে লাদাখ যাত্রা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাহাড় কেটে তৈরি হচ্ছে একের পর এক সুড়ঙ্গ, আর সেই সুড়ঙ্গপথই ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ছবি। একসময় শীত নামলেই প্রবল তুষারপাতের কারণে মানালি (Manali) থেকে লাহুল-স্পিতি হয়ে লাদাখের (Ladakh) দিকে যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যেত। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। সারা বছর যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি এই রাস্তা পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন গতি দিয়েছে। একই সঙ্গে লাদাখের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর জন্য রসদ ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার কাজও আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে। ফলে পাহাড়ি রাস্তা নির্মাণ এখন শুধু উন্নয়নের বিষয় নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

সুড়ঙ্গপথই ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে হিমাচল প্রদেশের (Himachal Pradesh) যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতির ছবি

এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদাহরণ রোহতাং পাসের নীচ দিয়ে তৈরি প্রায় ন’কিলোমিটার দীর্ঘ অটল টানেল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় পীর পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির নীচ দিয়ে তৈরি এই সুড়ঙ্গ রোহতাং গিরিপথের দুর্গম পথকে কার্যত পাশ কাটিয়ে দিয়েছে। বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন বা বিআরও-র তৈরি এই প্রকল্পের ফলে লাহুল-স্পিতির প্রত্যন্ত এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। সিসুর মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলিতেও পৌঁছনো এখন তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছন্দ। আগে তুষারপাতের সময় যে অঞ্চলগুলি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানেই এখন পর্যটনের প্রসার ঘটছে। হোটেল, পরিবহণ, খাবার এবং স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয়েও তার প্রভাব পড়ছে (Himachal Pradesh)।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর মাইনে আরও বাড়ল! কে তিনি জানেন?

তবে হিমাচলের সুড়ঙ্গ-নির্ভর যোগাযোগ পরিকল্পনা অটল টানেলেই থেমে থাকছে না। মানালি ও লেহ-র মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করতে ২৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নিম্মু-পদুম-দার্চা বা এমপিডি রুটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পথের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬,৫৮০ ফুট উচ্চতায় তৈরি হচ্ছে ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ শিনকু লা টানেল। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে মানালি থেকে লাদাখের দিকে বিকল্প যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে শীতকালে তুষারপাতের কারণে অন্য রাস্তা সমস্যায় পড়লে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সেনাবাহিনীর জন্য দ্রুত জওয়ান, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় রসদ সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এর পাশাপাশি পাঞ্জাবের কিরাতপুর থেকে মানালি পর্যন্ত প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার দূরত্ব কমিয়ে আনতে চার লেনের বাইপাসও তৈরি হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের এই প্রকল্পে মোট ২৯টি সুড়ঙ্গ থাকছে, যার মধ্যে ২১টির নির্মাণকাজ শেষের দিকে। সুড়ঙ্গগুলির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫০ মিটার থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত। এই পুরো রুটে ৪৪টি ধসপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ষায় ধস এবং হড়পা বানের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকায় সুড়ঙ্গের পাশাপাশি ওভারব্রিজও তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার মূল লক্ষ্য হল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলেও সারা বছর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।

Tunnels are gradually transforming the connectivity and economy of Himachal Pradesh.

আরও পড়ুন: ‘বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা..,’ সেপ্টেম্বরের টাকা ছাড়ার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হিমাচলের (Himachal Pradesh) অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা আপেল চাষ এবং পর্যটন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শীতের তুষারপাত ও দুর্গম পাহাড়ি পথ এই দুই ক্ষেত্রের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াত। নতুন সুড়ঙ্গ ও সড়ক যোগাযোগ সেই বাধা অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নও। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের নজরে ছিল শ্রীনগর-লেহ সড়কপথ। সেই অভিজ্ঞতার পর লাদাখে পৌঁছনোর বিকল্প ও তুলনামূলক নিরাপদ রুট তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে নিম্মু-পদুম-দার্চা রুটকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পাহাড় ফুঁড়ে তৈরি এই সুড়ঙ্গগুলি একদিকে যেমন হিমাচলের পর্যটন ও ব্যবসাকে সারা বছরের গতি দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে লাদাখ সীমান্তে ভারতের কৌশলগত প্রস্তুতিকেও আরও মজবুত করে তুলছে।