বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্পের (West Bengal Health Scheme) আওতায় থাকা রোগীদের বেশ কয়েকটি রোগের ওষুধ নিজেদের টাকাতেই কিনতে হত। এবার সেই প্রকল্পের (WBHS) সুবিধা আরও বাড়াল নবান্ন। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, গ্লুকোমা, আলসারেটিভ কোলাইটিসের মতো আরও ছয়টি রোগকে OPD চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে WBHS-এর আওতায় বহির্বিভাগের চিকিৎসায় ওষুধের খরচ পাওয়ার যোগ্য রোগের সংখ্যা বেড়ে হল ২৪। অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ৭ই সেপ্টেম্বর।
স্বাস্থ্য প্রকল্পের(West Bengal Health Scheme) সুবিধা বাড়াল নবান্ন
এই প্রকল্পে যে রোগগুলি নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে রয়েছে প্যানক্রিয়াটাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, আলসারেটিভ কোলাইটিস, গ্লুকোমা, ইডিওপ্যাথিক পালমোনারি ফাইব্রোসিস (IPF) এবং কানেক্টিভ টিস্যু ডিজিজ (CTD)। CTD-র আওতায় আবার নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগকে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সিস্টেমিক স্ক্লেরোসিস, CTD-সম্পর্কিত ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ, শোগ্রেনস সিনড্রোম এবং ডার্মাটোমায়োসাইটিস বা পলিমায়োসাইটিস।
WBHS চালুর পর থেকে ধাপে ধাপে OPD প্রতিদানের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় ছিল ক্যানসার, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বি ও সি-সহ লিভারের রোগ, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্নায়বিক সমস্যা, ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের নির্দিষ্ট পর্যায়, থ্যালাসেমিয়া এবং দুর্ঘটনায় আঘাতের মতো গুরুতর অসুখ।
পরবর্তীতে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস, ক্রোনস ডিজিজ, রুট ক্যানাল চিকিৎসা, COPD, অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস, কোভিড-১৯ এবং নির্দিষ্ট নিউরোসাইকিয়াট্রিক সমস্যাও সেই তালিকায় জায়গা করে নেয়। নতুন ছয়টি রোগ যুক্ত হওয়ার পর সেই পরিধিই আরও বিস্তৃত হল। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, নতুন অন্তর্ভুক্ত অসুখগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের খরচও OPD প্রতিদানের জন্য বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, কোনও পেনশনভোগী যদি গ্লুকোমার চিকিৎসায় প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা খরচ করেন, তাহলে নতুন তালিকাভুক্তির ফলে সেই ব্যয় নির্ধারিত নিয়ম মেনে OPD প্রতিদানের আওতায় দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পুরো ১,৫০০ টাকা যে পুরোপুরি ফেরত মিলবে, এমন নয়। প্রকল্পের অনুমোদিত হার ও প্রযোজ্য সীমার ভিত্তিতেই দাবির পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন : পুজোর জন্য ২১ দিন ইডেন চাইল রাজ্য, রঞ্জি-র ম্যাচ সরছে কল্যাণীতে
তাই নতুন সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই অসুস্থতা সংক্রান্ত রিপোর্ট, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজনীয় নথি সঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করলে উল্টে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। নবান্নের এই সিদ্ধান্তে WBHS-এর আওতায় থাকা কর্মী ও পেনশনভোগীদের, যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অসুখের কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমল।













