বাংলাহান্ট ডেস্ক: চাকরির ইন্টারভিউয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন? তাহলে কানপুরের (Kanpur) বৈভব মিশ্রের (Vaibhav Mishra) সাফল্যের গল্পটা (Success Story) আপনাকে নতুন করে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। একটা সময় ছোট কোম্পানি কিংবা স্টার্টআপের ইন্টারভিউ থেকেও ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকে নিজের বিরুদ্ধে না নিয়ে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সেটাই খুঁজে বের করেছিলেন বৈভব। তারপর শুরু হয় নিজেকে নতুন করে তৈরি করার পালা। প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সিস্টেম ডিজাইন এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে জোর দেন তিনি। ফলও আসে দ্রুত। মাত্র ছ’মাসের মধ্যে আটটি সংস্থার ইন্টারভিউয়ে সফল হয়ে চাকরির অফার পান তিনি। বর্তমানে দুবাইয়ের একটি সংস্থায় তাঁর বার্ষিক CTC প্রায় ১.৩ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।
বৈভব মিশ্রের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
উত্তরপ্রদেশের কানপুরের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা বৈভব ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন। ২০১৫ সালে ICSE দশম শ্রেণির পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৮৫.৪ শতাংশ। এর দু’বছর পর ISC দ্বাদশের পরীক্ষায় ৮৮.৮ শতাংশ নম্বর পান তিনি। পড়াশোনার ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকেও সবসময় উৎসাহ পেয়েছেন। পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য তিনি গোয়ালিয়রের অটল বিহারী বাজপেয়ী ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বা ABV-IIITM-এ ভর্তি হন। সেখান থেকেই কম্পিউটার সায়েন্সে B.Tech ডিগ্রি অর্জন করেন। নামী IIT বা NIT-এর বাইরে পড়াশোনা করেও যে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় জায়গা তৈরি করা সম্ভব, বৈভবের যাত্রা তারই উদাহরণ (Success Story)।
আরও পড়ুন: পুজোর আগে ভালো খবর নয়! বকেয়া DA মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭শে অক্টোবর, অপেক্ষায় সরকারি কর্মীরা
কলেজে পড়ার সময় থেকেই নিজের প্রযুক্তিগত ভিত্তি শক্ত করার দিকে নজর দিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে সমস্যা সমাধান এবং কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে কোডিংয়ের দক্ষতা বাড়ান। পাশাপাশি ফ্রন্ট-এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নিজের বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। C++, C, Java ও JavaScript-এর পাশাপাশি Node.js, Express.js, React, Redux, HTML এবং CSS-এর মতো প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেন। MySQL ও NoSQL-এর মতো ডাটাবেস টেকনোলোজি নিয়েও কাজ করেন। এই প্রস্তুতিই পরবর্তীতে কঠিন টেকনিক্যাল ও কোডিং ইন্টারভিউ সামলাতে তাঁকে সাহায্য করে। তবে শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞানই যে যথেষ্ট নয়, প্রথম দিকের একের পর এক ব্যর্থতা তাঁকে সেই শিক্ষাও দিয়েছিল।
বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বৈভব বুঝতে পারেন, শুধু আরও বেশি কোডিং জানলেই হবে না; ইন্টারভিউ স্ট্র্যাটেজি এবং সিস্টেম ডিজাইনিংয়ের মতো জায়গাতেও নিজেকে উন্নত করতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতির ধরন বদলান তিনি। এরপর নিয়মিত ইন্টারভিউ দিতে শুরু করেন এবং প্রতিটি ব্যর্থতাকে পরের সুযোগের জন্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখেন। ছ’মাসে আটটি আলাদা সংস্থায় interview দিয়ে সাফল্য পাওয়ার পিছনে এই ধারাবাহিক প্রস্তুতিই বড় ভূমিকা নেয় বলে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে। অর্থাৎ, প্রত্যাখ্যান তাঁর কাছে থেমে যাওয়ার কারণ হয়ে ওঠেনি; বরং কোথায় আরও উন্নতি প্রয়োজন, তা বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের টাকা ছাড়তে ২ দিন বাকি! তার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে নতুন আপডেট মুখ্যমন্ত্রীর
তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতাও এই সাফল্যের (Success Story) ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ভারতে Groww-তে প্রায় তিন বছর কাজ করার সময় web performance, NextJS এবং user experience optimisation-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন বৈভব। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বাস্তবে বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর দক্ষতাকে আরও ধারালো করে। ধীরে ধীরে একজন সাধারণ ডেভেলপার থেকে সিনিয়র লেভেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন তিনি। ফলে তাঁর গল্পে কোটি টাকার প্যাকেজটাই একমাত্র চমক নয়; বরং ছোট শহর, প্রত্যাখ্যান এবং সীমিত সুযোগের মধ্যেও নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিয়মিত দক্ষতা বাড়ানোর যে মানসিকতা, সেটাই বৈভব মিশ্রের সাফল্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।













