বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাজস্থানের (Rajasthan) সিকার জেলার ছোট্ট গ্রাম কেরপুরা থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন, মেজর নব্যা শেখাওয়াতের (Major Navya Shekhawat) এই যাত্রা এখন দেশের প্রতিরক্ষা মহলে বিশেষভাবে চর্চিত। ভারতীয় সেনার এই তরুণ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Drauopadi Murmu) এইড-দ্য-ক্যাম্প বা ADC হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভারতীয় সেনা থেকে রাষ্ট্রপতির এডিসি পদে নিযুক্ত হওয়া প্রথম মহিলা কর্মকর্তা নব্যা। ২০২৫ সালে নৌসেনার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার যশস্বী সোলাঙ্কি রাষ্ট্রপতির প্রথম মহিলা এডিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রেও তৈরি হল নতুন নজির।
প্রথম মহিলা সেনা আধিকারিক হিসাবে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সহকারী হলেন নব্যা (Navya Shekhawat):
নব্যার (Major Navya Shekhawat) সেনাজীবনের শুরু অবশ্য একেবারেই অন্য জায়গা থেকে। UPSC-র কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস বা CDS পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর ২০২১ সালে ভারতীয় সেনার Army Service Corps-এ কমিশন পান। সেনাবাহিনীর এই শাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল বিভিন্ন ইউনিটের রসদ, সরবরাহ, পরিবহণ এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের পাশাপাশি সেনার প্রতিটি ইউনিট যাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিষেবা সময়মতো পায়, সেই ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ Army Service Corps-এর হাতে থাকে।
সেনায় যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই নব্যা মেজর পদে উন্নীত হন। ২০২৬ সালে তাঁর কেরিয়ারে আসে আরও বড় দায়িত্ব—রাষ্ট্রপতির এডিসি হিসেবে নিয়োগ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে এই দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদটি বাইরে থেকে যতটা আনুষ্ঠানিক বলে মনে হয়, বাস্তবে তার দায়িত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি, বৈঠক, সফর ও অনুষ্ঠানে সমন্বয় বজায় রাখা, সামরিক প্রোটোকল মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে এডিসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনাও বড় বিষয়। রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন কর্মসূচি থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও সামরিক অনুষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই এডিসি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় তৈরিতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়। ফলে এই দায়িত্বের সঙ্গে শৃঙ্খলা, উপস্থিত বুদ্ধি, প্রোটোকল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা এবং অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার ক্ষমতা জড়িয়ে থাকে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে তাঁকে পাশে দেখা গেলেও সেই উপস্থিতির পিছনে থাকে বিস্তৃত প্রশাসনিক ও সমন্বয়ের কাজ।

আরও পড়ুন: ওটিটিতে কী ধরনের কনটেন্ট? খতিয়ে দেখতে নিজস্ব নজরদারি কমিটি গঠন
নব্যার (Major Navya Shekhawat) এই সাফল্য তাই শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কেরিয়ারের নতুন মাইলফলক নয়, ভারতীয় সেনায় মহিলা আধিকারিকদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। কেরপুরার মতো ছোট জায়গা থেকে CDS পেরিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া, মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে মেজর হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির এডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া—তাঁর পথচলায় একাধিক ধাপ রয়েছে। ২০২৫ সালে যশস্বী সোলাঙ্কির পর ২০২৬ সালে নব্যা শেখাওয়াতের এই দায়িত্ব গ্রহণ দেখিয়ে দিল, দেশের তিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে মহিলাদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।













