বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য (Free Trade Deals) চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর দিল নিউজিল্যান্ডের (India-New Zealand) পার্লামেন্ট। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে চুক্তি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিলটি পাস হয়েছে। শাসক ন্যাশনাল পার্টির পাশাপাশি প্রধান বিরোধী লেবার পার্টির সদস্যদেরও একাংশ এই চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চুক্তিটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন জানিয়েছেন, বহু মানুষ তাঁকে বলেছিলেন ভারতের সঙ্গে এমন বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব নয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তব হয়েছে। তাঁর দাবি, এই চুক্তি নিউজিল্যান্ডের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভারতীয় বাজারে কিউয়ি পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করবে।
আরও প্রশস্ত হল ভারত ও নিউজিল্যান্ড (India-New Zealand) মুক্তবাণিজ্যের পথ
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের (India-New Zealand) মধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল। এবার নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনের ফলে সেটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। চুক্তি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই নিউজিল্যান্ডের ভারতের উদ্দেশে রপ্তানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত হবে বলে সে দেশের সরকার জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সমস্ত পণ্যই নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের কাছেই নতুন বাজার তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, এই চুক্তিতে ভারতের লাভটা কোথায়? ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা তৈরি হবে। বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, রত্ন ও অলঙ্কার, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-সহ শ্রমনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে MSME, কারিগর, উদ্যোক্তা এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসার জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুধু পণ্য রপ্তানি নয়, পরিষেবা, পেশাদারদের চলাচল এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও চুক্তিতে একাধিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ভারতের সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধক্ষেত্রের বেশ কিছু পণ্যকে শুল্ক ছাড়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও চুক্তিটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন, পরিকাঠামো, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশ প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। আপেল, কিউই ও মধুর মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যৌথভাবে কাজ করার ব্যবস্থাও চুক্তির অংশ। ফলে ভারতের জন্য শুধু রপ্তানি বাড়ানো নয়, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণে আসবে দূষণ! কার্বন নিঃসরণ কমাতে Net Zero Portal লঞ্চ করল ভারত, কীভাবে হবে পর্যবেক্ষণ?
দুই দেশের (India-New Zealand) বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিসরও ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার। নতুন মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সেই বাণিজ্যকে আরও বিস্তৃত করার পথ খুলতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তব সুফল কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে ভারতীয় সংস্থাগুলি নতুন বাজারে কতটা প্রতিযোগিতামূলকভাবে নিজেদের পণ্য ও পরিষেবা তুলে ধরতে পারে তার উপর। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এই চুক্তির সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে। দুই দেশই চলতি বছরের মধ্যে চুক্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।













