পাড়ার ওষুধের দোকানেও এবার CCTV! প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পাড়ার ওষুধের দোকানে গিয়ে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কেনেন? এবার সেই বিক্রির উপরও নজর রাখতে চাইছে কেন্দ্র (Central Government)। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি ও ওষুধের দোকানে প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির সময় CCTV রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু CCTV থাকলেই হবে না, অন্তত তিন মাস তার ফুটেজও সংরক্ষণ করতে হবে।

Central Government : কেন ফার্মেসিতে CCTV বসানোর প্রস্তাব?

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক গত ৮ সেপ্টেম্বর ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫ সংশোধনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহ করা হলে সেই দোকানে CCTV নজরদারির ব্যবস্থা থাকতে হবে। তবে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

কীভাবে রাখতে হবে CCTV?

CCTV এমনভাবে রাখতে হবে, যাতে পরে কোনও নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি বা সরবরাহ হয়েছিল কি না, তা ফুটেজ দেখে বোঝা যায়। সেই রেকর্ড কমপক্ষে তিন মাস রেখে দিতে হবে। ফলে কোনও দোকানের বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি CCTV দেখে বিষয়টি যাচাই করতে পারবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ড্রাগস রুলসের ৬৫ নম্বর ধারায় আনার কথা বলা হয়েছে। ড্রাগস কনসালটিভ কমিটি এবং ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি বোর্ডের সদস্যরা এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখেছেন। কেন্দ্রের মতে, এর ফলে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে এবং ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নজরদারিও বাড়বে।

শুধু Schedule H, H1 ও X-এর ওষুধ নয়

বর্তমানে Schedule H, H1 এবং X-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে CCTV-এর নিয়ম শুধু এই তিন ধরনের ওষুধের জন্যই থাকবে, এমন কোনও কথা বলা হয়নি। ফলে প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে বিক্রি হওয়া অন্যান্য ওষুধও এই নিয়মের আওতায় আসতে পারে।
প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে কাশির ওষুধ ও সিরাপের বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছু ওষুধ বিক্রি বা ব্যবহার করা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কোনও ওষুধ অপ্রয়োজনে বা ভুলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই কারণেই ওষুধের বিক্রি ও সরবরাহের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিশুর বয়স এবং শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে ওষুধের ধরন ও মাত্রা ঠিক করা প্রয়োজন। তাই প্রস্তাবিত CCTV ব্যবস্থা শুধু কাশির সিরাপের জন্য নয়, প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বিক্রি করা ওষুধের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে পারে।

Drug Control major crackdown on counterfeit medicines in Kolkata

আরও পড়ুনঃ সিন্ডিকেট রাজে লাগাম, তোলাবাজি রুখতে নতুন আইন আনছে রাজ্য

তবে এই মুহূর্তে নিয়মটি চূড়ান্ত হয়নি। খসড়া সংশোধনী নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত ও আপত্তি চেয়েছে কেন্দ্র। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হলে সেই মতামত পর্যালোচনা করা হবে। তারপরই ঠিক হবে, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে কি না (Central Government)।